নতুন খবর রিপোর্ট
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পরিবহনে চাঁদাবাজির ঘটনায় দুই নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনার সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করায় সাইদুর রহমান ওরফে মিঠু শিকদার (৪২) নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ৯টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী এলাকায় সাইদুর রহমানের ওপর দুই দফা হামলা করা হয়।
তিনি বর্তমানে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
আহত সাইদুর রহমান ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী এলাকার শাহজাহান শিকদারের ছেলে।
তিনি ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। এর আগে তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।
চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক হওয়া সোহান মুন্সী (২৮) কাপুড়িয়া সদরদী এলাকার শাহী মুন্সীর ছেলে এবং শোয়েব মোল্লা (৩০) হোগলাডাঙ্গী সদরদী এলাকার লিয়াকত মোল্লার ছেলে।
পলাতক থাকায় সোহান ও শোয়েবের বক্তব্য জানা যায় নি।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের বলেন, সাইদুর রহমানের মাথা, পিঠ ও ডান পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর মধ্যে মাথার আঘাত গুরুতর।
আহত সাইদুর রহমানের ছোট ভাই রাজু শিকদার অভিযোগ করে বলেন, সোহান ও শোয়েব চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তারা ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিভিন্ন পরিবহনে চাঁদাবাজিসহ করছিল।
অভিযোগ পেয়ে গত ১২ মে পুলিশ তাদের থানায় ধরে নিয়ে যায়। পরে উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারী আইয়ুব মোল্লা থানা থেকে তাদের ছাড়িয়ে আনেন। এ ঘটনায় নিউজ হয়। সেই নিউজ আমার ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সোহান ও শোয়েবের নেতৃত্বে আমার ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা সন্ধ্যায় আমার ভাইকে লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এ সময় পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাই নি।
পরে রাত ৯টার দিকে ভাঙ্গা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পথে ফের চাকু দিয়ে কুপিয়ে আহত করে।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব মোল্লা বলেন, ঘটনাটি ন্যক্কারজনক। হামলাকারীরা কাজটি ঠিক করেনি। আমি ওসিকে ফোন দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছি।
ভাঙ্গা থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয় নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মে বিকেলে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে রবিন নামে সার্বিক পরিবহনের এক চেকারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে সোহান ও শোয়েবের বিরুদ্ধে। পরে চাঁদাবাজির অভিযোগে এই দুজনকে থানায় নেওয়া হয়। রাতেই থানায় গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনেন ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব মোল্লা।