নতুন খবর রিপোর্ট
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায়
এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে
দুই মোড়লের (মাতুব্বর) ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জেরে প্রায়ই ঘটছে সংঘর্ষ। এতে প্রতিপক্ষের বাড়ি,দোকান এমন কি ফসলি জমিতেও হামলার ঘটনা ঘটছে। হামলা ও পাল্টা হামলায় মানুষ আহত হচ্ছেভ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে কেউ কেউ।
অতি সম্প্রতি উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গট্টি বাজার, আড়ুয়াকান্দি ও মীরের গট্টি এলাকাতেও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।
সর্বশেষ সোমবার (৪ মে) সকালে উপজেলার মীরের গট্টি গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত ২০/২৫টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
এসব ঘটনায় একাধিক মামলা হয়েছে।দুই মোড়ল একাধিকবার কারাগারে গিয়েছে।কিন্তু শান্তি নেই।
উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে এলাকাবাসীর।
স্থানীয়রা জানান, গট্টি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার ও এলাকা নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে আড়ুয়াকান্দি গ্রামের ইউপি সদস্য নুরু মাতুব্বরের সঙ্গে বালিয়া গট্টি গ্রামের জাহিদ মাতুব্বরের দীর্ঘদিন ঘরে বিরোধ চলছে।
নুরু ও জাহিদ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে তারা বিএনপিতে যোগ দেন। সেই থেকে তাদের সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ১০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন মানুষ আহত হয়েছে। এর মধ্যে কেউ কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।
এ বিরোধের জেরে গত রবিবার দুপুরে নুরু মাতুব্বরের সমর্থক আনোয়ার শেখকে (৩০) পিটিয়ে আহত করে জাহিদের সমর্থকরা।
পরে জাহিদের সমর্থক রেজাউলকে মারধর করেন নুরু মাতুব্বরের সমর্থকরা।
এ ঘটনার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সর্বশেষ সোমবার সকালে মীরের গট্টি এলাকায় নুরু মাতুব্বরের ছেলে রাজীব মাতুব্বরকে (৩২) কুপিয়ে আহত করা হয়।
এর জেরে নুরু মাতুব্বরের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাহিদের সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ২০ থেকে ২৫টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
এই সংঘর্ষ, হামলা পাল্টা হামলার ঘটনায় স্থানীয়রা বিরক্ত। তারা এ বিরোধের অবসান চায়।কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কেউ শান্তির পতাকা হাতে এগিয়ে আসে না। বিরোধ জিইয়ে থাকে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে তারা চলে যায়। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হয়।
মানুষ আশা করেন অচিরেই এই বিরোধের অবসান হবে। শান্তি ও নিরাপদ পরিবেশে বাস করবে এলাকাবাসী।
জানতে চাইলে নুরু মাতুব্বর বলেন, জাহিদ ও আজাদ মাতুব্বরের সমর্থকরা আমাদের ১০/১২ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে পঙ্গু করে ফেলেছে। থানায় অভিযোগ দিলে তা গ্রহণ করা হয় না। পুলিশ তাদের পক্ষে কাজ করে। পুলিশ কঠোর ভূমিকা নিলে এমন পরিস্থিতি হত না। আজও আমার ছেলেসহ কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
আর জাহিদ মাতুব্বর বলেন, আমার কোনো সমর্থক নেই। আমি অসুস্থ ও এখন কোনো রাজনীতি বা বিরোধের সঙ্গে জড়িত নই। সবকিছু ছেড়ে পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকতে চাই।
এ ব্যাপারে সালথা থানার ওসি মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, দুই পক্ষের বিরোধের জেরে হামলা, পাল্টামামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। পুলিশ খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। এখানে কারো পক্ষ নেওয়া হচ্ছে না।
সালথার ইউএনও মো. দবির উদ্দীন বলেন, নিরাপদ ও শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোভাবেই অশান্তি সৃষ্টিকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না।