নতুন খবর রিপোর্ট
ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় পুলিশের এক সংবাদ সম্মেলনে মা ও মেয়ে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও এ ঘটনার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানানো হয়।
রবিবার (১৭ মে ) দুপুর একটায় অনুষ্ঠিত এ
সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকান্ড সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য দেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার,(অর্থও প্রশাসন ) ফাতেমা ইসলাম , ডিআইও মো. মোশারফ হোসেন ও কোতয়ালী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা জাহানারা বেগম (৩০) ও তার শিশু কন্যা সামিয়ার (৫) মরদেহ গত ১৪ মে কোতয়ালী থানাধীন চর মাধবদী ইউনিয়নের কালীতলা এলাকার একটি জমিতে থেকে মাটি চাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজন মো. লালন মোল্লা কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত করেন এসআই মো. আবুল বাশার মোল্লা।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার বকারটিলা এলাকা থেকে মো. উজ্জ্বল খান (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জাহানারা বেগম ও তার মেয়ে সামিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পুলিশ জানায়, ঢাকার আমিনবাজার এলাকায় একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারা বেগমের সঙ্গে উজ্জ্বল খানের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে উজ্জ্বল খান জাহানারাকে ফরিদপুরে ডেকে নেয়।
গত ৪ মার্চ রাতে কোতয়ালী থানার চর মাধবদী ইউনিয়নের কালীতলা এলাকায় একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উজ্জ্বল খান প্রথমে জাহানারাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ঘটনাস্থলে শিশু সামিয়াকেও গলা টিপে হত্যা করে।
পরে আসাসি নিজ বাড়ি থেকে কোদাল এনে ছাপড়া ঘরের পাশে গর্ত খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ মাটি চাপা দেয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বোরকা, ওড়না, নেকাব, শিশু সামিয়ার পোশাক, একটি মালা, আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও কোদাল উদ্ধার করে।
মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।