নতুন খবর রিপোর্ট
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় খাল পুনঃখননের নামে বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের দুই শতাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় উপজেলা সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) আহ্বায়ক করে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আগামী শনিবারের (২৩ মে) মধ্যে কমিটির তদন্ত শেষ করার কথা রয়েছে। তদন্তকালে কতগুলো গাছ কাটা হয়েছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের নদীয়ার চাঁদ এলাকার মধুমতী নদী থেকে কামারগ্রাম স্লুইসগেট পর্যন্ত খালের দুই কিলোমিটার অংশে এ খনন কাজ চলমান রয়েছে।
তবে ওই এলাকার বন বিভাগের বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১৫ বছর বয়সী দুই শতাধিক মেহগনি ও শিশু গাছ গত সপ্তাহে কেটে ফেলা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, খাল খননের অজুহাতে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতা ব্যবহার করে গাছ কেটে গায়েব করা হয়েছে।
দুই শতাধিক গাছ কাটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাল কাটার নামে বৃক্ষ নিধন শিরোনামে ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
এ ঘটনায় রবিবার (১৭ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই এলাকার সামাজিক বনায়ন কমিটির সভাপতি (যিনি নদেরচাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক) হেমায়েত উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কেটে ফেলা গাছের অন্তত ৬০টি কাণ্ড ও গুঁড়ি জব্দ করা হয়।এর পর থেকে হেমায়েতউদ্দিন পলাতক রয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে যে তার সমর্থকরা গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত।
তবে সিরাজুল ইসলাম নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, খাল খনন প্রকল্পের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত থাকলেও গাছ কাটার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি ফেসবুকের ওই পোস্টে লেখেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ মোল্লা বলেন,খাল ও খালপাড়ের গাছ পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্ষেত্রে খনন কাজের সুবিধার্থে গাছ অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে। তবে নিয়মের বাইরে কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, গাছ কাটার জন্য বন বিভাগ থেকে কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রাকিবুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে কোনো গাছ কাটা হলে তাকে শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি জমির গাছ কেউ ব্যক্তিগতভাবে নিতে পারবে না। নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
ফরিদপুর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া কোনো গাছ কাটার সুযোগ নেই। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।