নতুন খবর রিপোর্ট
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত বাংলাদেশি নারী শ্রমিক দিপালী বেগমের (৩৪) মরদেহ এক মাস পর দেশে ফিরছে।
আগামী ৭ মে (বৃহস্পতিবার) রাত ১১টা ২০ মিনিটে তাঁর মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে ) বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস ও ফরিদপুর জেলা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। লেবাননের বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) ও দূতাবাস প্রধান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বার্তায় জানানো হয়, নিহত দিপালীর মরদেহ বর্তমানে বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত আছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে সার্টিফায়েড পুলিশ রিপোর্ট ও লাশ পাঠানোর অনুমতিপত্র গ্রহণসহ যাবতীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
বার্তায় আরও জানানো হয়, আগামী বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট মরদেহটি নিয়ে বৈরুত বিমানবন্দর ত্যাগ করবে। দুবাই হয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে অপর একটি ফ্লাইটে মরদেহটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।
এ ব্যাপারে দিপালীর ছোট বোন লাইজু বেগম বলেন, ‘বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ আসার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দেরিতে হলেও আমার বোনের লাশ যে আমরা পাব, এটাই আমাদের কাছে স্বস্তির সংবাদ। যদি এয়ারপোর্টের কার্যক্রম শেষ করে আমরা লাশ রাত দুইটার মধ্যেও হাতে পাই। তাহলে মরদেহ নিয়ে ওই রাতেই বাড়িতে দেব।
ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারি পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী বলেন, যুদ্ধাবস্থা ও বিমান চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় লাশ আনতে কিছুটা সময় লেগেছে। দেশে আসার পর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফ্রি অ্যাম্বুলেন্সে লাশটি গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হবে।
দাফন বাবদ এয়ারপোর্ট থেকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের হাতে ৩৫ হাজার টাকা এবং পরে তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পূর্ব শালেপুর মুন্সীরচর গ্রামের দিনমজুর শেখ মোকার মেয়ে দিপালী আক্তার।
পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচাতে ২০১১ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি লেবানন প্রবাসী হন।
প্রবাসে থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি পুরো পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা পরিবর্তন করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল লেবাননের রাজধানী বৈরুতের একটি বাসভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রফিক হারিরি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।