নতুন খবর রিপোর্ট
ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সরকারি শিশু পরিবারে কিশোরী (১৪) অন্তঃসত্ত্বার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসনের চার সদস্যের তদন্ত কমিটি।
ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষা ও আদালতে জবানবন্দি গ্রহণের পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
তদন্ত শেষে শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন, আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সুস্মিতা সাহা, সদস্য সচিব জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার জান্নাতুল সুলতানা, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেন এবং সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি মেডিকেল অফিসার ডা.নূপুর পাল।
কমিটির সদস্যরা সোমবার (১৩ জুলাই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতয়ালী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম জানান, রবিবার (১২ জুলাই) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসিতে)ওই কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওই কিশোরী এক নম্বর আমলি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তসলিমা আক্তার।
কিশোরী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে কথা কম বলছে। ঘটনার বিবরণ দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে ওই কিশোরী জানায়, এক দর্জি তাকে জোর করে ধর্ষণ করেছে। তবে সে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম বলতে পারে নি।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি ওয়াহিদ শেখকে (৫৪) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হবে।
উল্লেখ্য, ফরিদপুর শহরের টেপাখোলায় অবস্থিত সরকারি শিশু পরিবারের (বালিকা) এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় গত ৬ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের অভিযোগে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মামলা হয়।
এ মামলার বাদি সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু পরিবারের (বালিকা) তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন। ঘটনার পর ওই শিশু পরিবারের ছয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।