নতুন খবর রিপোর্ট
ফরিদপুরে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মো. লালন মোল্লা (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত।
জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সোমবার ( ১৩ জুলাই ) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন।
পরে তাকে কড়া পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো.লালন মোল্লা ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি
সেখানে স্ত্রী সাজেদা বেগম (৪০)কে নিয়ে বাস করতেন।
বাসার পাশের একটি ভবনে কেয়ারটেকার ছিলেন তিনি।
মামলার এজাহারসূত্রে জানা গেছে, সাজেদা বেগমের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ভাটদী গ্রামে।
২০০৪ সালে সাজেদাকে বিয়ে করেন লালন মোল্লা।
তিনি লালনের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। লালন এর আগে একটি বিয়ে করেন। সেখানে তার ৩৪ বছর বয়সী পিকুল মোল্লা নামে এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
সাজেদা ও লালন দম্পতি নিঃসন্তান ছিলেন।
বিয়ের পর থেকেই লালন মাদক গ্রহণের টাকার জন্য সাজেদাকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা এনে দিতে চাপ দিতেন। কয়েকবার সাজেদা বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকাও এনে দেন।
২০২২ সালের ৯ আগস্ট ৫০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ দেন লালন। এই টাকার জন্য কয়েকবার তাকে মারধরও করেন তিনি। তবে টাকা এনে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২৩ আগস্ট ভোর চারটা থেকে সাড়ে চারটার মধ্যে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করেন লালন।
এ ঘটনায় ওই দিনই হত্যাকাণ্ডের শিকার সাজেদার ছোট বোন মাজেদা বেগম (৩৫) বাদি হয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় যৌতুকের দাবিতে বোনকে হত্যার অভিযোগে লালন মোল্লাকে একমাত্র আসামি করা হয়।
মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাথ দাস।
২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি লালন মোল্লাকে একমাত্র অভিযুক্ত করে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, বর্তমানে যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। যৌতুকের প্রবণতা কমাতে এবং অপরাধ করলে যে অবশ্যই সাজা পেতে হবে। এ রায়ের মাধ্যমে সেই বার্তা সমাজে পৌঁছাবে।
তিনি জানান,এর ফলে সমাজে এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা কমে আসবে।