নতুন খবর রিপোর্ট
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ম. ম. সিদ্দিক মিঞাকে কারা ফটকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপির এমপি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল।
১৭৫ দিন কারাভোগের পর রবিবার (৮ মার্চ) ফরিদপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেলে ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে এভাবে বরণ করা হয়। সিদ্দিক মিঞা উপজেলার আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) সংসদীয় আসনে সংযুক্ত করার প্রতিবাদে আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন সিদ্দিক মিঞা। আন্দোলনের একপর্যায়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আটক করে।
পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর পুলিশের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ১৭৫ দিন কারাগারে থাকার পর রবিবার তিনি মুক্তি পান।
কারাগার থেকে মুক্তির পর পরই কারা ফটকের সামনে ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিক মিঞাকে স্বাগত জানান এমপি শহীদুল ইসলাম ওরফে বাবুল। এসময় জেলগেটে তারা একে অপরকে ফুলের মালা গলায় পরিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে সদ্য কারামুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ম. ম. সিদ্দিক মিঞা বলেন, আমার কারামুক্তির জন্য নবনির্বাচিত এমপি শহীদুল ইসলাম বাবুলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
এদিকে শহীদুল ইসলাম বাবুল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমি কথা দিয়েছিলাম- ভাঙ্গার ইউনিয়ন রক্ষার আন্দোলনে গ্রেপ্তার আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ সবাইকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মুক্ত করব। আজ সিদ্দিক চেয়ারম্যান মুক্ত হলেন। আমি জেলগেটে থেকে তাকে রিসিভ করলাম।

প্রসঙ্গত, ভাঙ্গা উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) থেকে কেটে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে অন্তর্ভুক্ত করে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে। এরপর থেকে ভাঙ্গায় প্রথমে দুই দফায় ৪ দিন মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নবাসী। এ আন্দোলনে সমর্থন জানায় ভাঙ্গার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন ও দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
পুরো আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন আলগী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ম. ম. সিদ্দিক মিঞা।
চার দিন অবরোধ চলার পরে আলগী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর তিন দিন সকাল-সন্ধ্যা ভাঙ্গায় মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। কর্মসূচি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরবর্তীকালে উচ্চ আদালতের রায়ে ওই দুই ইউনিয়ন ফের ফরিদপুর-৪ আসনে যুক্ত হয়।
গত নির্বাচনে এ দুটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা ফরিদপুর-৪ আসনের ভোটার হিসেবে ভোট দেন।