নতুন খবর রিপোর্ট
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে উচ্চ আদালতের আদেশে ফরিদপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলনের প্রার্থীতা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান দোলন।
যা সংবিধান, আইন ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) লঙ্ঘন বলে দাবি ওই প্রার্থীর।
একই সাথে তাকে প্রার্থীতা স্থগিতের আদেশ কপি না দেওয়ায় আপিলের সুযোগ মিলছে না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন দোলন।
শুক্রবার(৬ ফেব্রুয়ারি ) বিকেলে জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার কামারগ্রামে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন আরিফুর রহমান দোলন।
তিনি ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাহাজ প্রতীক পেয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন।
নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগে তার প্রার্থিতা স্থগিতের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ওই আদেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে দোলন জানান, পাঁচদিন আগে উচ্চ আদালতের আইনজীবী গোলাম আহমেদ বুলবুলের মাধ্যমে জানতে পারি উচ্চ আদালতের আদেশে আমার প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষকলীগের সহসভাপতি দাবি করে উচ্চ আদালতে রিট করেন জুনায়েদ হোসেন নামে এক জুলাইযোদ্ধা। রিটকারী বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা এবং তাঁর বাবা-মা জামায়াতে ইসলামীর রোকন বলে তিনি জানান।
আরিফুর রহমান দোলন বলেন, রিটকারী যে দাবি করেছেন তা সর্ববৈ মিথ্যা। আমি এক সময় কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ছিলাম। বর্তমানে কোনো পদ-পদবীতে নেই। যদি থেকেও থাকে তাহলে দেশের যে আইন রয়েছে সেখানে কোথাও উল্লেখ নেই যে, যদি কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হয় এবং দলটি নিষিদ্ধ হয় তাহলে সে নির্বাচন করতে পারবে না৷ আর আমি তো আওয়ামীলীগের কোনো প্রার্থীও নই।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন আমাকে বৈধ হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা আমাকে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন। হঠাৎ করেই উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের মাধ্যমে আমার প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে। আমার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি আমি যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করব। সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ওই আদেশের কপি আটকে রাখা হয়েছে। এরপরও আমি শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।
দোলন বলেন, এদেশে ঋণখেলাপি ও যারা দ্বৈত নাগরিক তারা পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আমি ঋণখেলাপি নই। দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই আমার। অথচ আমাকে আওয়ামী লীগ করার দায়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বাধীনতা বিরোধীদের সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো আদেশের কপি পাই নি।কপি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।