নতুন খবর রিপোর্ট
ফরিদপুরে রাজু শেখ হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও আট আসামী গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিং এ এসব তথ্য জানানো হয়।
সোমবার( ১৬ মার্চ ) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং এ ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, ফরিদপুর শহরের গৃহলক্ষীপুর এলাকায় সংঘটিত রাজু শেখ হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এতে বড় ভাইয়ের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে সহযোগীদের নিয়ে তাকে খুন করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ এজাহারনামীয় ও তদন্তে প্রাপ্ত মোট আট জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে।

তিনি বলেন, গত ১ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের স্টেশন মাছ বাজার এলাকার একটি মাংসের দোকানের সামনে রাজু শেখের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ মার্চ রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিহত রাজু শেখ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাদক সংক্রান্ত লেনদেন ও পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, নিহত রাজুর ছোট ভাই ইব্রাহীম শেখের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার তিন দিন আগে রাজু তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে ইব্রাহীম ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে হৃদয়, সাকিব, রবিউল, মারুফ ও স্বপ্নসহ কয়েকজনকে নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজুর অবস্থান নিশ্চিত করে হামলা চালানো হয়।

ঘটনার দিন হৃদয় রাজুকে ডেকে আনে এবং কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অন্যরা চাপাতি ও ছুরি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা ঢাকা ও বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে যায়। গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ পাবনার সাঁথিয়া থানা এলাকা থেকে কয়েকজনকে এবং ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসামীদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামীদের দেওয়া তথ্য মতে ১৬ মার্চ রাতে কোতয়ালী থানার হাবেলি গোপালপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চারটি চাপাতি ও একটি স্টিলের ছুরি উদ্ধার করা হয়।
এ মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পলাতক অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমীর হোসেন , কোতোয়ালী থানার ওসি শহীদুল ইসলাম টিআই খুরশিদ প্রামাণিকসহ ফরিদপুরের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।