নতুন খবর রিপোর্ট
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিনশ` বছরের একটি প্রাচীন মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি নামজারি করা নিয়ে নগরকান্দার উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করেছেন মন্দির কমিটি।
এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মৌখিক নির্দেশে সেখানে প্রভাবশালী মহল দোকান নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
একই সাথে নামজারি প্রদান ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানান তারা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শ্রী শ্রী চরযশোরদী সার্বজনীন কালী মন্দির কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মন্দির কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট বনানী দাস।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, জেলার নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের কালীবাড়ি বাজার সংলগ্ন প্রাচীন ওই মন্দিরটির অবস্থান।
কয়েকশ` বছর ধরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সেখানে পূজা-পার্বণ ও ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।
তৎকালীন ওই এলাকার জমিদার রাম শঙ্কর সেন গং এক একর ৪৩ শতাংশ জমি মন্দিরের নামে দেবাত্তোর ঘোষণা করেন।
বর্তমানে যার সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ড মন্দিরের নামে রয়েছে। সেখানে একটি শশ্মান ঘাটও রয়েছে৷
লিখিত বক্তব্যে বনানী দাস আরও জানান, মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি দীর্ঘদিন আইনী জটিলতায় অবরুদ্ধ ছিল।
যার প্রেক্ষিতে ২০০১ সালে তৎকালীন মন্দির কমিটির সভাপতি বানি কান্ত বসু গং জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং এসিল্যান্ডকে বিবাদী করে ফরিদপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় ২০০১ সালে বাদীর পক্ষে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন আদালত। এছাড়া আদালতের রায় অনুযায়ী সরকারের ‘খ’ তালিকা থেকে অবমুক্ত করেন।
বনানী দাস অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মন্দিরের নামে জমি হস্তান্তরিত ও অবমুক্ত হলেও রহস্যজনক কারনে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে নামজারি করা হচ্ছে না।
বর্তমান সহকারী (ভূমি) কমিশনার খায়রুল হাসান মন্দিরের নামে নামজারি দিবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।এতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
যার মধ্যে, স্থায়ী উন্নয়ন ও সরকারি অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মহল জায়গা দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বনানী।
সংবাদ সম্মেলনে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিখিল চন্দ্র বসু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সরকার সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে মন্দিরের জায়গা দখল করে স্থানীয় হুমায়ুন মুন্সী, দেলোয়ার মাতুব্বর ও পাশের বাহারা গ্রামের সেলিম মুন্সীসহ কয়েক ব্যক্তি সেখানে পাকা দোকানঘর নির্মাণ করছেন। যেখানে ইতিমধ্যে তিনটি দোকানঘর তোলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সঞ্জয় সরকার অভিযোগ করে বলেন, দোকান ঘর নির্মাণাধীন অবস্থায় আমরা বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী (ভূমি) কমিশনারকে অবগত করি। এরপর তারা সরেজমিনে গিয়ে দেখে এলেও কোনো পদক্ষেপ নেন নি। এরমধ্যে দূর্গাপূজার আগে ইউএনও নিজেই লিখিতভাবে পাকা স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু আবার তার মৌখিক নির্দেশে সেখানে আধাপাকা ঘর তোলা হচ্ছে। উনি লিখিতভাবে এক নির্দেশ আবার মৌখিকভাবে আরেক নির্দেশ কিভাবে দিতে পারেন?
এসব হয়রানি বন্ধ ও দখলমুক্ত করতে তারা সরকারের উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনটি দাবি তুলে ধরেন।
যার মধ্যে রয়েছে, দ্রুত মন্দিরের নামে নামজারি করে খতিয়ান প্রদান, সব ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানি বন্ধ এবং জায়গা সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করা হয়।
এ ব্যাপারে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজোয়ানা আফরিনের নম্বরে ফোন দিলে সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) খায়রুল হাসান বলেন, এটি নিয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।