নতুন খবর রিপোর্ট
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বাবার শেষ ইচ্ছা ছিল নিজের পছন্দের জায়গায় সমাহিত হওয়ার। কিন্তু তার মৃত্যুর পর তিন ভাইবোনের কোনো কথাই শুনলেন না তার বড় ছেলে।
অন্য ভাইবোনদের আপত্তি ও তীব্র প্রতিবাদ উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ নিজের সিদ্ধান্তে বাবাকে নিজের কাছে নিয়ে কবর দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৮ অক্টোবর রবিবার। যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী বলেছেন, ওই মুক্তিযোদ্ধার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার কবর দিতে প্রশাসন যেন উদ্যোগ নেয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের আলী হোসেনের ডাঙ্গী এলাকার প্রয়াত খলিলুর রহমান একজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। গত ১৮ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর পর পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং তাঁর নিজের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার বড় ছেলে ওহাব জমাদ্দার বাকি তিন ভাইবোনের কোনো মতামত বা অনুরোধের তোয়াক্কা করেন নি।
তিনি একক সিদ্ধান্তে বাবার মরদেহ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজের জায়গায় দাফন করেছেন।
এই ঘটনার পর খলিলুর রহমানের স্ত্রী, বাকি দুই মেয়ে এবং অন্য এক সন্তান তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, বড় ভাই ওহাব জমাদ্দার কেবল তাদের আবেগকে আঘাত করেন নি। বরং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ ইচ্ছার চরম অবমাননা করেছেন।
তার মেয়ে শেফালী বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাবা বেঁচে থাকতে তার শেষ ইচ্ছার কথা আমাদের বলে গিয়েছিলেন। আমরা সব ভাইবোন মিলে বাবার সেই ইচ্ছা পূরণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বড় ভাই আমাদের কোনো কথাই শুনলেন না। তিনি জোর করে বাবাকে নিজের বাগির কাছে নিয়ে কবর দিলেন। আমরা এই একনায়কতান্ত্রিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তার আরেক সন্তান আব্দুর রব জমাদ্দার বললেন, “বাবা বেঁচে থাকতে বলেছিলেন তার মৃত্যুর পর তাকে যেন এলাকার কবরস্থানে কবর দেওয়া হয়। আমরা সবাই তাই চেয়েছিলাম। কিন্তু বাবার শেষ ইচ্ছা আমার বড় ভাই পূরণ করতে দেয় নি। আমরা চাই আমার বাবার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী কবরস্থানে তার কবর দেওয়া হয়।আমার বাবার কবর এভাবে আমরা দেখতে চাই না।

খলিলুর রহমানের স্ত্রী রুবিয়া বেগম বললেন, আমার স্বামী মৃত্যুর আগে তার কবরের কথা কবরস্থানে দেওয়ার কথা বলে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর পর তার মরদেহ জোর করে অন্যত্র নিয়ে কবর দেওয়া হয়েছে। এই কাজটি ঠিক হয় নি। তার ইচ্ছা থাকায় পরিবার ও এলাকাবাসী সবাই চেয়েছিল তার লাশ যেন কবরস্থানে কবর দেওয়া হয়।
এলাকার বাসিন্দা হাজী ইমদাদুল হক বলেন, আমরা শুনেছিলাম তার শেষ ইচ্ছা ছিল তাকে বাড়ির পাশে কবরস্থানে কবর দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
তবে সেই আশা তার বড় সন্তান পূরণ করতে দেয়নি।
আমরা চাই এমন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর যেন তার শেষ ইচ্ছামাফিক করা হয়।
এ ব্যাপারে তার বড় ছেলে ওহাব জমাদ্দার বলেন, আমার বাবার এটা পুরনো বাড়ি। তিনি এক সময় এই বাড়িতে বাস করতেন। তার মৃত্যুর পরে তাকে তার সেই পুরনো বাড়িতে নিয়ে কবর দিয়েছি। এখন আমার ভাই বোন মিথ্যা কথা বলছে।