• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১০ অপরাহ্ন
Headline
ফরিদপুরে ক‌লেজ ছাত্র কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন আদালত এলাকা থেকে এক ব‌্যক্তি‌কে তুলে নিয়ে হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ লিবিয়ায় নির্যাতনে হা‌বি মাতুব্ব‌রের মৃত্যু , তদন্তে মুক্তিপণ আদায়কারীকে অব্যাহতি শিশু ধর্ষ‌ণ চেষ্টার দা‌য়ে ফ‌রিদপু‌রে এক ব‌্যক্তির পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভাঙ্গায় সারসহ ডিলার আটক ফ‌রিদপু‌রে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পা‌লিত ভাঙ্গায় সা‌বেক ইউ‌পি চেয়ারম‌্যান গ্রেপ্তার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে আন্তর্জাতিক ইন্টারনাল মেডিসিন ডে পালিত ফরিদপুরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বাস পোড়ানোর মামলায় ফ‌রিদপু‌রে ইউপি চেয়ারম্যান মজনু গ্রেপ্তার

পেটে গজ রেখে সেলাই, পাঁচমাস ভু‌গে মারা গেলেন বীথি

Reporter Name / ৬৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

নতুন খবর রি‌পোর্ট
“আমার নবজাতক সন্তান কোলে বাঁচতে চাই”- এক মুমূর্ষু মা‌য়ের আকু‌তি ছিল। হাসপাতালে চিকিৎসার সময় তার ‌এই আকু‌তি জানিয়েছিল প্রসূ‌তি বীথি আক্তার (২৩)। তবে তাঁর সেই আকুতি শোনার কেউ ছিল না? সন্তান জন্মদানকালে অস্ত্রোপচারে পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের পাঁচমাস পর বৃহস্প‌তিবার (৮ অ‌ক্টোবর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গে‌লেন বী‌থি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দি‌কে ঢাকা মেডিকেল ক‌লেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তি‌নি।
বীথি আক্তার রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের জামতলার হাট জ্যেতিনবর্দিপাড়া গ্রামের রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী এবং ফরিদপুর শহরের একটি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে কাজ করছিলেন।
বীথির স্বামী রাকিবুল ইসলাম জানান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় গত ৪ অক্টোবর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠা‌নো হয় বীথিকে। ঢাকা নেওয়ার পরে তার অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে। সেখানে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বৃহস্প‌তিবার সকালে মারা যায় বীথি৷
প‌রে বী‌থির মর‌দেহ দুপুরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রীকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম। আমি ব্যর্থ হলাম। ওরা আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলছে। আমার পাঁচ মাস বয়সী এই সন্তানকে এখন বাঁচাব কি করে?
বীথির পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বীথির অস্ত্রোপচার করেন ডাক্তার তামান্না আক্তার ও ইন্টার্ণ চিকিৎসক অরবিন্দু। ওই সময় তিনি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। এর পাঁচদিন পরে হাসপাতাল ছেড়ে স্বামীর বাড়িতে চলে যায় বীথি। এরপর থেকে অসুস্থতাসহ নানা জটিলতা দেখা দেয় তাঁর। একপর্যায়ে অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও গুরুতর কোনো সমস্যা হয়নি বলে তাঁকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে প্রায় দেড় মাস পর দুই দফায় দুটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে আল্ট্রাসনোগ্রামে দেখা যায়, তাঁর পেটের মধ্যে (গজ কাপড়) রয়েছে।
এরপর গত ১২ জুলাই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় তাকে।
তিনদিন পর ১৫ জুলাই সার্জারী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফজলুল হক শোভন ও সঞ্জয় সাহা তাঁর দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার করে গজ কাপড় বের করে আনেন। তখন তাঁর পেটের নাড়ী পচেঁ সংক্রমণ দেখা দেয়।
পরবর্তীতে ২২ জুলাই তাকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এরমধ্যে পেটের মধ্যে সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গত ২০ সেপ্টেম্বর আবার তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে ভর্তি হন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
এ ব‌্যাপা‌রে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত পরিচালক) মানস কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, বীথির চিকিৎসার জন্য আমরা মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছিলাম। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বী‌থি‌কে ঢাকায় পাঠা‌নো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বলে আমাদের জানা‌নো হ‌য়ে‌ছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় গঠিত ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছেন। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য তাদের সাত কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছিল এবং সেটি শেষ হওয়ায় তারা আরও সময় চেয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পে‌লে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা