নতুন খবর রিপোর্ট
এবারে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ফরিদপুর সদর উপজেলার পদ্মা নদীতে তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।
কয়েকদিনে ভাঙনের কবলে পড়ে কয়েকশ` একর ফসলি জমি, কয়েকটি বসতভিটা চলে গেছে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ভাঙন আতঙ্কে কাটাচ্ছেন পদ্মা নদীর চরাঞ্চলের মানুষ।ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে তারা বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে প্রতি বছরই নদী ভাঙনে শিকার হয়ে মানুষ ফসলি জমি ও বাড়ি হারান।
চলতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু থেকেই ইউনিয়নের দুটি গ্রামে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়রা জানান, এ ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গী ও শুকুর আলী মৃধা ডাঙ্গীতে নদীর ভাঙন শুরু হয়। কয়েকদিনের ভাঙনে কবলে পড়ে কয়েকশ` একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয়রা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন।
প্রতি বছর নদীভাঙনের শিকার হলেও তা প্রতিরোধে কোনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।
শুকুর আলী মৃধার ডাঙ্গীর কয়েকজন বাসিন্দা আলী খাঁ, তোরাব শেখ এবং জরিনা আক্তার ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, আমরা গরিব মানুষ।তাই ভাঙনের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও কোনো প্রতিকার পাই না। তারা বলেন, এবারের নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ভাঙছে। কারণ পদ্মা নদী থেকে অবাধে বালু তোলা হচ্ছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই।
এদিকে ইউসুফ মাতুব্বর ডাঙ্গীর কয়েকজন বাসিন্দা আইউব মোল্লা, তারেক শেখ, জামেলা বেগম বলেন, পদ্মা নদীতে কয়েকবার বাড়ি ভেঙেছে। এবারও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছি।এবার বাড়িঘর নদীতে বিলীন হলে পরিবার নিয়ে কোথায় যাব জানি না ?
নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.মোফাজ্জেল হোসেন জানান, ‘নদীভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ভাঙনরোধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আমরা আশা করছি।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানান, বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ওই ইউনিয়নে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, ‘নদীভাঙন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসককেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।