নতুন খবর রিপোর্ট
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা মামলায় স্বামী নূর জামাল মিয়াকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রবিবার (১৭ মে ) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সদরপুর উপজেলার টেউখালী গ্রামের নূর জামাল মিয়ার সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে একই এলাকার মুরশিদা বেগমের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই নূর জামাল যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।
এছাড়া নূর জামাল মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন।
এ কারণে তিনি স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে নির্যাতন করতেন। এক পর্যায়ে তাকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ২৪ মে রাতে আরও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রীকে মারধর করেন নূর জামাল।
এ সময় তিনি স্ত্রীকে ঘরের ভেতর আটকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত ভেবে টয়লেটের সেপটি ট্যাংকির মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর জখম অবস্থায় মুরশিদা বেগমকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে সেখান থেকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা ফজলু মোল্লা সদরপুর থানায় নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নূর জামালের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামি নূর জামালকে এ দণ্ড দেন।
ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি ) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন সাজা দানের এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।