সাক্ষাৎকার : কেমন নির্বাচন চাইঃ
শামা ওবায়েদ ইসলাম ( ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী)।
# সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছেনঃ সঞ্জীব দাস।
নতুন খবর রিপোর্ট
# সঞ্জীব দাস : নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন দল থেকে অনেক দিন ধরে একটি ‘ভালো নির্বাচনের’ কথা বলা হচ্ছে। সেই ‘ভালো’ নির্বাচনের পরিবেশ দেখছেন এখন?
শামা ওবায়েদ :
নির্বাচনের পরিবেশ এখনও শান্ত রয়েছে। এখনও প্রতিক দেওয়া হয়নি এবং অফিসিয়াল ক্যাম্পিংও শুরু হয়নি। আমি একজন প্রার্থী হিসেবে মনে করি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিটা আরও ঠিক রাখতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় যে বিশৃঙ্খল ঘটনাগুলো ঘটেছে বিগত দিনে প্রার্থীদের ওপর অ্যাটাক হয়েছে, বিএনপি প্রার্থীর ওপর হয়েছে এবং অন্যান্য দলের প্রার্থীর ওপর হয়েছে।
যেমন আমরা ঢাকায় একজন জনপ্রিয় প্রার্থী হাদীকে আমরা হারিয়েছি। প্রার্থীদের নিরাপত্তা ভোটারদের নিরাপত্তা এবং প্রার্থীরা স্বাধীনভাবে ভোট চাইবে, ক্যাম্পিং করবে সেই জায়গায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো বেশি উন্নত হওয়া প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি।
সঞ্জীব দাস : নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী?
নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কেমন মনে করছে?
শামা ওবায়েদ :
গত ৫ আগস্টে ফ্যাসিবাদ পতনের পর পরবর্তী সময়ে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র গোলাবারুদ লুট হয়েছিল সেগুলোর অর্ধেকও রিকোভারি এখনও হয়নি। সেগুলোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরো বেশি শক্ত ভূমিকা রাখতে হবে ও সজাগ থাকতে হবে। যাতে কোনোভাবেই দুষ্কৃতিকারীরা অঘটন ঘটাতে না পারে এবং নির্বাচনকে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে।
সঞ্জীব দাস : বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আপনার অভিমত জানতে চাই?
নির্বাচনের আগে এ ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি কি হয়েছে? কোথায় আরও কাজ করতে হবে?
শামা ওবায়েদ :
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনকে আরও বেশি সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানাব। কয়েকজন প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে, মৃত্যুও হয়েছে।
এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো বেশী ভালো হওয়া প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে যারা দায়িত্বে রয়েছে তাদের আরো বেশি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিভিন্ন প্রার্থী ও সমর্থকরা যাতে নিশ্চিন্তে প্রচারণা চালাতে পারে সেটাও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনকে সজাগ-দৃষ্টি রাখতে হবে। গতবছর যে অস্ত্র লুট হয়েছিল সেগুলো এখনও রিকোভারি হয়নি। সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টেটমেন্ট থেকে আমরা জেনেছি। আমরা সাধারণ ভোটাররা এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছি।
আমাদের দেশের ৫১% নারী ভোটার। সেই নারী ভোটারা যাতে নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারে তাদের যাতে কোন সমস্যা না হয় সে বিষয়টাকে নির্বাচন কমিশনের যারা মাঠ পর্যায়ে রয়েছে তাদের কিন্তু নিশ্চিত করতে হবে। ভোটার হিসেবে এটার দাবি রাখছি।
সঞ্জীব দাস : নির্বাচনের আগে প্রশাসনিকব্যবস্থা কেমন দেখছেন?
শামা ওবায়েদ :
এ পর্যন্ত নির্বাচনের কমিশনের সকল কাজে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট রয়েছি। নির্বাচন কমিশনের যারা মাঠ পর্যায়ে রয়েছে আরও দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারে সেটা নির্বাচন কমিশনকে মনোনিবেশ করতে হবে। পুলিশ এবং সরকারের অন্যান্য সংস্থার কাজ করবে সুষ্ঠু করার জন্য। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য আমি সেনাবাহিনীও আহ্বান জানাব তারা যেন এগিয়ে আসে। কারণ এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি নির্বাচন, গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে আনার একটি নির্বাচন, নতুন বাংলাদেশের গঠনের একটি নির্বাচন। এবারের এই নির্বাচনটি একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। নতুন বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এই নির্বাচনটি একটি বড় নির্বাচন বলে আমি মনে করি। প্রশাসন নিরপেক্ষতার সাথে সততার সাথে ভূমিকা পালন করবে সেটাই আমি আশা করি।
সঞ্জীব দাস : নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে আপনার অভিমত কী?
শামা ওবায়েদ :
গণভোট ও ভোট একই দিনে হচ্ছে সেটা নিয়ে ঠিকই রয়েছে এটা নির্বাচনকে আরও বেশি কমপ্লিটেড করেছে আরেকটু। বিশেষ করে ৩০০ নির্বাচনী এলাকার বেশিই কিন্তু গ্রামেগঞ্জে অবস্থিত। সেই জায়গা থেকে ভোটারদের শিক্ষার হার বিবেচনা করে গণভোটের ব্যাপারটা ভোটারদের বোঝানো সেটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেটা নির্বাচন কমিশন কতটুকু করতে পেরেছে সেটা আমি জানি না। আমি আশা করব এই ব্যাপারে সাধারণ ভোটার এবং নারী ভোটারদের আরো বেশি অবগত করতে হবে। এটার প্রয়োজন এবং কি কারণে গণভোট করতে হবে সেটা বোঝানো বড় প্রয়োজন।
সাধারণত নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে অবগত করতে হবে। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো উদ্যোগ নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকেও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বলে আমি মনে করি আরো বেশি।
সঞ্জীব দাস : আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জগুলো কী বলে মনে করেন?
শামা ওবায়েদ :
প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের পরে একটি সুষ্ঠ গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে আনতে
একটি সুষ্ঠু নির্বাচন, ফ্রী ফেয়ার একটি নির্বাচন হবে সেটার বাস্তব রূপ দেওয়ায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
১৭ বছর নির্বাচনের ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। সেটাকে ফিরিয়ে এনে নির্বাচন কমিশনকে কাজ করতে হবে। আমি মনে করি এখনো নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ রয়েছে। নিরপেক্ষতা বজায় রেখে তারা এই নির্বাচন প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রে যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। একই দিনে গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন একই দিনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জটা নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতার সাথে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করতে পারে সেটা আমরা আশা করি। ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে কিন্তু এখনো কিন্তু ফ্যাসিবাদ আছে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র অংশ হিসেবে ব্যর্থ করা এবং প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। সেই ষড়যন্ত্র নির্বাচন কমিশনকে, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে, অন্তবর্তী সরকারকে এবং ভোটারদের কেউ সজাগ থাকতে হবে এবং দমন করতে হবে।
সঞ্জীব দাস : নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?
শামা ওবায়েদ :
গণমাধ্যমের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। গত ১৭ বছর নির্বাচন গুলোতে ভোটের নামে যে ডাকাতি হয়েছে সেগুলো গণমাধ্যম ভালোভাবেই তুলে ধরেছে বলে আমি মনে করি। সত্যটা তুলে ধরার ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা পালন করেছিল সে সময়। প্রত্যেকটি নির্বাচনী এলাকায় কি ঘটনা ঘটছে, প্রার্থীদের কি অবস্থা, ভোটারদের কি অবস্থা, জনগণ কি ভাবছে এই জিনিসগুলো যাতে স্বচ্ছতার তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা ব্যাপক। কেউ যাতে অন্যায় করে পার না পাই সেখানেও কিন্তু গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে। এবার সারাদেশের নির্বাচনী এলাকায় গণমাধ্যম ভালো ভূমিকা রাখবে সেটাই আমি প্রত্যাশা করি।
সঞ্জীব দাসঃ সাক্ষাতকার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
শামা ওবায়েদ: আপনাকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।