• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
Headline
ফরিদপুরে ক‌লেজ ছাত্র কৌশিক সাহা জিতু হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন আদালত এলাকা থেকে এক ব‌্যক্তি‌কে তুলে নিয়ে হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ লিবিয়ায় নির্যাতনে হা‌বি মাতুব্ব‌রের মৃত্যু , তদন্তে মুক্তিপণ আদায়কারীকে অব্যাহতি শিশু ধর্ষ‌ণ চেষ্টার দা‌য়ে ফ‌রিদপু‌রে এক ব‌্যক্তির পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভাঙ্গায় সারসহ ডিলার আটক ফ‌রিদপু‌রে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পা‌লিত ভাঙ্গায় সা‌বেক ইউ‌পি চেয়ারম‌্যান গ্রেপ্তার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে আন্তর্জাতিক ইন্টারনাল মেডিসিন ডে পালিত ফরিদপুরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বাস পোড়ানোর মামলায় ফ‌রিদপু‌রে ইউপি চেয়ারম্যান মজনু গ্রেপ্তার

লিবিয়ায় নির্যাতনে হা‌বি মাতুব্ব‌রের মৃত্যু , তদন্তে মুক্তিপণ আদায়কারীকে অব্যাহতি

Reporter Name / ২৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

নতুন খবর রি‌পোর্ট
লিবিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের নির্যাতনে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপ‌জেলার হাবি মাতুব্বর নিহতের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস। প্রতিবেদনটি এরই ম‌ধ্যে ফরিদপুরের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রতি‌বেদ‌নে মুক্তিপণের টাকা আদায়কারী বকুল মাতুব্বরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহত হাবির পরিবার।
নিহত হাবির স্ত্রী তাছলিমা বেগম ক্ষুব্ধ প্রতি‌ক্রিয়া ব‌্যক্ত ক‌রে তি‌নি ব‌লেন, এতে বিচারপ্রক্রিয়ার শুরুতেই আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।
নিহত হাবি মাতুব্বর (৪৫) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের জাঙ্গালপাশা গ্রামের মৃত সালাম মাতুব্বরের ছেলে।
তার দুই ছেলে হৃদয় (২০) ও তাওহীদ (১৫) এবং পাঁচ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে।
স্বামী নিহত হওয়ার পর তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তাছলিমা বেগম।
পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় একটি চক্র ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাবি মাতুব্বরকে লিবিয়ায় পাঠায়।
হা‌বি মাতুব্ব‌রের স্বজন‌দের দা‌বি, পাশের গোয়ালপাড়া গ্রামের আসলাম মাতুব্বরের (৪০) সঙ্গে হাবির পরিচয় ছিল। আসলাম মানব পাচার চক্রের প্রধান হিসেবে পরিচিত নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের মুরাদ বেপারী (৪০), ফুলসূতি গ্রামের বকুল মাতুব্বরসহ (৫০) ছয়জনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
ইতালি পাঠানোর জন্য ২০ লাখ টাকায় চুক্তি হয় বলে জা‌নি‌য়ে‌ছে পরিবারের সদস‌্যরা।
ধারদেনা ও জমি বন্ধক রেখে প্রথম দফায় ১০ লাখ টাকা চক্রটির হাতে দেন হাবি। এরপর ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট ইতালির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন তিনি।
লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর ২ সেপ্টেম্বর অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকা বকুল মাতুব্বরসহ তিনজনের হাতে দেওয়া হয়।
হা‌বির স্ত্রী তাছলিমা বেগমের অভিযোগ, লিবিয়ায় হাবি মাতুব্বরকে অন্য বন্দীদের সঙ্গে একটি ঘরে আটকে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে বকুল মাতুব্বরের কাছে পাঠানো হয়। পরে বকুল আমা‌দের বাড়িতে এ‌সে ওই দৃশ্য দেখান এবং হোয়াটসঅ্যাপে নির্যাতনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। ওই নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে হাবিকে বাঁচাতে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তখন বসতবা‌ড়ি বন্ধক রেখে এবং স্বজনদের কাছ থেকে ধার ও সুদে টাকা নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বকুল মাতুব্বর, শাহিন মাতুব্বর ও মনির মাতুব্বরের কা‌ছে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়।
তাছলিমা বেগম বলেন, মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন থামে নি। এক মাস পর বকুলের মাধ্যমে মুরাদ বেপারী আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে না পারায় নির্যাতন বাড়তে থাকে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অন্য বন্দীদের মাধ্যমে স্বামীর মৃত্যুর খবর পাই।
তাছ‌লিমা আরও জানান, হাবির মৃত্যুর পর সেখান থেকে জানালা ভেঙে পালিয়ে আসা অন্তত ১১ জন সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাবি মাতুব্বরকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে মারা যান। পরে তাঁর মরদেহ একটি গাড়িতে তুলে ভূমধ্যসাগরে অথবা মরুভূমিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে তারা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় তাছলিমা বেগম চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক ষষ্ঠী পদ রায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তাছলিমা বেগমের স্বামী হাবি মাতুব্বরকে লিবিয়ায় পাঠানোর জন্য আসলাম মাতুব্বর ও মুরাদ বেপারীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। প্রতিবেদনে মুরাদ বেপারী, আসলাম মাতুব্বর, শাহিন মাতুব্বর, মনির ফকির ও তানিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে হাবি মাতুব্বরকে ইতালিতে পাঠানোর উদ্দেশ্যে মানব পাচার ও চোরাচালানের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে প্রতিবেদনে বকুল মাতুব্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাছলিমা বেগম।
এ ব‌্যাপা‌রে তাছলিমা বেগম অভিযোগ ক‌রে ব‌লেন, বকুল মাতুব্বরের ছেলে পারভেজ মাতুব্বর বাগেরহাটের মান্দা এলাকায় বিয়ে করেছেন। পারভেজের এক চাচাশ্বশুর যুগ্ম সচিব। তার সুপারিশে বকুল মাতুব্বরকে প্রতিবেদন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তি‌নি বলেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর জনশক্তি অফিসে দুই পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার সময় সহকারী পরিচালক ষষ্ঠী পদ রায়ের কাছে যুগ্ম সচিব পরিচয়ে এক ব্যক্তির ফোন আসে। বকুল মাতুব্বরকে ডেকে আমার সামনেই জিজ্ঞাসা করা হয়, যুগ্ম সচিব তার কী হন। পরে বকুলের একটি মনগড়া বক্তব্য রাখা হয়।
এরপর তদন্ত প্রতিবেদনে দেখি, বকুল মাতুব্বর এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতই নন।
তাছলিমা বেগম আরও বলেন, পাওনাদারদের ভয়ে তিন সন্তান নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। কখনো না খেয়েও থাকছি। এই অবস্থায় সঠিক বিচার না পেলে আমারও মরণ ছাড়া কিছু নেই।
বকুল মাতুব্বর নিজেই আমার বাড়িতে এসে টাকা নিয়েছেন। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় টাকা দেওয়ার ভিডিও রাখতে পারি নি।
তি‌নি ব‌লেন, আ‌মি স্বামী হত্যার ন্যায্য বিচার চাই। সন্তানদের নিয়ে বাঁচতে চাই।
বকুল মাতুব্বরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় তার বক্তব‌্য জানা সম্ভব হয় নি।
তবে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, বাদীর সঙ্গে তাঁর কখনো যোগাযোগ হয়নি। এমন কি তিনি তাকে চেনেনও না।
এ ব‌্যাপা‌রে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক ষষ্ঠী পদ রায় বলেন, মামলার বাদী তাছলিমা বেগম বকুল মাতুব্বরের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি। প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা যায় না। এই তদন্ত প্রতিবেদনই সবকিছু নয়। বাদী আদালতে প্রমাণ দাখিল করতে পারলে আদালত ব্যবস্থা নেবেন। আদালত থে‌কে প্রতিবেদন চেয়েছিল। আমরা তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।
যুগ্ম সচিব পরিচয়ে ফোন আসার বিষয়ে ষষ্ঠী পদ রায় বলেন, কেউ ফোন দিলেই কাজ হয়ে যাবে। এমন নয়। সবকিছু প্রমাণের ওপর নির্ভর করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা