নতুন খবর রিপোর্ট
ইসরাইলি বিমান হামলায় লেবাননের রাজধানী বৈরুতে প্রাণ হারানো দিপালীর বাড়িতে এখন স্বজনদের শোক আর হাহাকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশিরাও সান্তুনা জানাতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।এমন দৃশ্যই দেখা গেল ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামের মেয়ে দিপালী বেগমের বাড়িতে।
বাবা শেখ মোফাজ্জলে ওরফে মোকা দিনমজুর। তাঁর কোনো কৃষিজমি নেই।
দিপালীর মা রাজিয়া বেগম মারা গেছেন আট বছর আগে। খাসজমিতে ঘর তুলে কোনোভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে পরিবারটি। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় শেফালী।এরপর দিপালী, তারপর দুই ভাই ওবায়দুর ও সিকেন্দার এবং সবার শেষে লাইজু বেগম।
পরিবারের অভাব দূর করতে জীবনের ঝুঁকি ২০১১ সালে প্রথম লেবাননে যান দিপালী। তখন তাঁর বয়স ১৯ বছর। প্রতি মাসে টাকা পাঠাতেন দেশে। সেই টাকা দিয়ে তোলা হয় দুটি চারচালা টিনের ঘর।
দিপালী ছাড়া আর সব ভাই–বোনের বিয়ে হয়। বিয়েতে আর্থিকভাবে সাহায্য করেন দিপালী। একে একে সব ভাইবোনের বিয়ে হয়ে গেলেও বিয়ের কথা ভাবেননি দিপালী।
ভেবেছেন সংসার ও ভাই- বোনের কথা।
ছোট বোন লাইজু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে চলেছেন,”ওরে আপা, আপা রে, চিরকাল সংসারের ঘানিই টাইনা গেলি। নিজের জন্যও একবারও ভাবলি না।”
দিন মজুর বাবার অভাবের কারণে স্কুলে যাওয়া হয়নি দিপালীর।
নিজের সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পাড়ি জমিয়েছিলেন লেবাননে।

কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুন কেড়ে নিল সেই নারীকে।
২০১১ সালে যখন দিপালী প্রথম জীবিকার তাগিদে লেবাননে যান। তখন ছোট বোন লাইজু বেগমের বয়স ছিল ১০/১১ বছর।
বড় বোনের সঙ্গে কাটানো সেই শৈশবের স্মৃতি হাতড়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন লাইজু।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাইজু বলেন, অভাবের কারণে পড়াশোনা করতে পারেনি আমার আপা। আপা সারা জীবন শুধু আমাদের জন্যই ভেবেছে। নিজের জন্য কোনো দিন ভাবেনি, সবটুকুই বিলিয়ে দিতে চেয়েছে সংসারের জন্য। নিজে কিছুতেই বিয়ে করতে চাইতেন না। পরে অনেকটা জোর করে তাঁকে বিয়ের পিঁড়িতে বসানোর চেষ্টা করা হলে তিনি জেদ করেই ২০২৪ সালের এপ্রিলে পাড়ি জমান লেবাননে। সেই যাওয়াই যে দিপালীর শেষ যাওয়া হবে। তা কি পরিবারের কেউ সেদিন ভেবেছিল?
৮ এপ্রিল বৈরুতের যে ভবনে দিপালী কর্মরত ছিলেন। সেখানেই বোমার আঘাত হানে ইসরায়েলি বোমারু বিমান।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দিপালী।ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ওই দিন সকালেই ছোট বোনের সঙ্গে শেষবারের মতো ইমোতে কথা হয়েছিল দিপালীর। বোমা হামলা বাঁচতে তারা এলাকা পরিবর্তন করছে।