নতুন খবর রিপোর্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুরের চারটি আসনে ১৫৪টি কেন্দ্র অতি গুরুত্বপূর্ণ বলে পুলিশ প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছে ফরিদপুরে ৪টি আসনের ৬৭ কেন্দ্র অতি গুরুত্বপূর্ণ ।
এই অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছে হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। তবে নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসন কেউই এগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বলতে নারাজ।
তারা বলছেন, ভোট কেন্দ্রগুলো বিভিন্ন কারণে অতি গুরুত্বপূর্ণ তবে এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নয়।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এইসব কেন্দ্রগুলোর ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে থানা থেকে বেশি দূরত্ব, চরাঞ্চলে ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, কেন্দ্রে যেতে যাতায়াত ব্যবস্থার সমস্যা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই, সার্বিক পরিবেশ বিবেচনা করে ওইসব ভোটকেন্দ্রগুলোকে অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯ উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৬৫৭ টি।
এর মধ্যে ফরিদপুর সদর উপজেলায় ১৫৪ টি, বোয়ালমারীতে ৭৮টি, মধুখালীতে ৭৯ টি, আলফাডাঙ্গায় ৪০টি, সালথায় ৫২টি, নগরকান্দায় ৬৫টি, ভাঙ্গায় ৯৯টি, সদরপুরে ৬৮টি এবং চরভদ্রাসনে ২২টি কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে জেলা নির্বাচন অফিসের তালিকা অনুযায়ী, অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্র ৭৬ টি।
আর জেলা পুলিশের তথ্য মতে, ফরিদপুর জেলায় ৬৫৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৫৪ টি ভোট কেন্দ্র অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রের বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শামসুল আজম বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুরের চারটি আসনে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রের বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে।
ফরিদপুরের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহমেদ বলেন, আমাদের হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কেন্দ্র নেই। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা করে পুলিশ। তবে চারটি নির্বাচনী আসনের মধ্যে ৭৬টি ভোটকেন্দ্র অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে চরাঞ্চলে রয়েছে ২৪ টি ভোট কেন্দ্র, যাতায়াত ব্যবস্থার সমস্যা, বিদ্যুৎ নেই কেন্দ্রগুলোতে, থানা থেকে অনেক দূরে অবস্থান এইসব কারণে এগুলো অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
এদিকে ফরিদপুরের ৪টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুটিতে ভোটার বেড়েছে, দুটিতে কমেছে। হিসেব মতে দুটি আসনে ভোটার ৯ হাজার ৯১৮ জন বাড়লেও বাকি দুটি কমেছে ২৯ হাজার ১৬৪ জন।
সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-১ আসনে আগের চেয়ে ভোটার বেড়েছে পাঁচ হাজার ৯১৯ জন।
ফরিদপুর-২ আসনে ভোটার কমেছে ৪ হাজার ৮৭৫ জন। ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে এবার ভোটার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কমেছে। এ আসনে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ২০৭ জন।
ফরিদপুর-৪ আসনে হালনাগাদে ভোটার বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৯৯৯ জন।
সে অনুযায়ী খসড়া তালিকা থেকে হালনাগাদ তালিকায় ভোটার কমেছে ২৯ হাজার ১৬৪ জন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশন হালনাগাদ এ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে। এর আগে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি শুরু করা হয়।
সে তালিকা অনুযায়ী জেলার চারটি নির্বাচনী আসনে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ১৭ লাখ ৬৯ হাজার ৭৭৭ জন।
এর মধ্যে নারী ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৯ জন, পুরুষ ৯ লাখ ২ হাজার ৪২০ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের আটজন।
এর আগে খসড়া তালিকায় জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৯৪১ জন।
এরমধ্যে নারী ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৩৩০ জন ও পুরুষ ৯ লাখ ১৫ হাজার ৬০৩ জন আর তৃতীয় লিঙ্গের আটজন।
এদিকে ২০২২ সালের আদমশুমারির তথ্যমতে, জেলার জনসংখ্যা ২১ লাখ ৬৫ হাজার ২৯০ জন।
যদিও জনসংখ্যার সনদে লেখা ২১ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৪ জন। সর্বশেষ এ আদমশুমারি অনুযায়ী জেলায় নারীর সংখ্যা ১১ লাখ ১৪ হাজার ৯১৩ (যদিও সনদে লেখা ১১ লাখ ১২ হাজার ৩৭৭) আর পুরুষ ১০ লাখ ৫০ হাজার ৩৭৭ জন।
সে অনুযায়ী জেলা সদরে পুরুষ দুই লাখ ৮০ হাজার ৭১৯ জন, নারী ২ লাখ ৮৬ হাজার ৯০২।
মধুখালীতে পুরুষ এক লাখ ১৪ হাজার ১৩৬ জন, নারী এক লাখ ১৭ হাজার ৮৩৮। বোয়ালমারীতে পুরুষ এক লাখ ৩০ হাজার ৪০১ জন, নারী এক লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৯। আলফাডাঙ্গায় পুরুষ ৫৬ হাজার ৫৭৭ ও নারী ৬৩ হাজার ১৪৮ জন। নগরকান্দায় পুরুষ এক লাখ ৯ হাজার ২০৪ জন, নারী এক লাখ ১৩ হাজার ৭২১।
সালথায় পুরুষ ৯১ হাজার ৪০০ জন, নারী ৯৪ হাজার ৮১৪ জন। ভাঙ্গায় পুরুষ এক লাখ ৩৯ হাজার ৭৬৩ জন, নারী এক লাখ ৫৪ হাজার ৭২ জন। সদরপুরে পুরুষ ৯৪ হাজার ৮২২ জন ও নারী এক লাখ ৬ হাজার ৬৭২ জন।
চরভদ্রাসনে পুরুষ ৩৩ হাজার ৪৫৫ জন ও নারী ৩৭ হাজার ৪৬৫ জন।
ফরিদপুর-১
মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। আয়তন ৬৩০ দশমিক ৪৫ বর্গকিলোমিটার। এ আসনে মোট জনসংখ্যা ৬ লাখ ১৯ হাজার ৭৭৮ জন।
হালনাগাদ ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ১০ হাজার ৩৮০ জন।
এর মধ্যে নারী দুই লাখ ৫০ হাজার ৯৩০ জন, পুরুষ ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪৯ জন আর তৃতীয় লিঙ্গের একজন।
এবার এ আসনে নতুন ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৯১৯ জন।
ফরিদপুর-২
নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এর আয়তন ৩৭৮ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ৪ লাখ ৯ হাজার ১৩৯ জন। এরমধ্যে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন।
এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭২ হাজার ৯০৯ ও নারী এক লাখ ৬৯ হাজার ১৩২ জন। খসড়া ভোটার তালিকায় এ আসনে মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৬ জন।
এবার ভোটার কমেছে ৪ হাজার ৮৭৫ জন।
ফরিদপুর-৩
আসনটি ৪০৩ দশমিক ৩৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এখানে জনসংখ্যা পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৬২১ জন। হালনাগাদ ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৩০ হাজার ৬২৭ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ১৫ হাজার ৪১২ ও নারী দুই লাখ ১৫ হাজার ২১০ জন।
খসড়া ভোটার তালিকায় এ আসনে মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৮৩৪ জন।
এবার ভোটার কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ২০৭ জন।
এ আসনে হিজড়া ভোটার রয়েছেন পাঁচজন।
ফরিদপুর-৪
ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনের আয়তন ৬৩১ দশমিক ২৪৯ বর্গকিলোমিটার। এখানে জনসংখ্যা পাঁচ লাখ ৬৬ হাজার ২৭১ জন।
হালনাগাদ তালিকায় নতুনভাবে যুক্ত অনুযায়ী আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নসহ ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৯৬ হাজার ৭২৯ জন। খসড়া তালিকায় এ আসনে ভোটার ছিল চার লাখ ৯২ হাজার ৭৩০ জন।
হালনাগাদে তিন হাজার ৯৯৯ জন ভোটার বেড়েছে।
এ আসনে মাত্র একজন হিজড়া ভোটার রয়েছেন।
আর মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩০ হাজার ৯১১ ও নারী ২ লাখ ২০ হাজার ৫২৬ জন।
ফরিদপুরের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহমেদ জানান, এবার দুটি সংসদে আসনে ভোটার বেড়েছে, দুটি আসনে ভোটার কমেছে।
এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, স্থানান্তর ও কর্তনের কারণে হালনাগাদ তালিকায় ভোটার সংখ্যা কমেছে।