• বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কুয়েতে বাংলাদেশী শ্রমি‌কের রহস্যজনক মৃত্যু মধুখালী‌তে পু‌লিশ সুপার বল‌লেন নি‌র্বাচ‌নে স‌হিংসতা নয় ফরিদপুরে যান জট ‌ঠেকা‌তে ইজিবাইক-অটো রিকশার রঙ বদলাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ ফরিদপুরে কোটিপতি চার প্রার্থী, আয় বেশি বিএনপির বোয়ালমারীতে ট্রেনের ধাক্কায় পিকআ‌পের তিন শ্রমিক নিহত, আহত ৯ ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা ক‌মি‌টির সভায় নির্বাচন প্রস্তুতি, ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত প‌রিচালনার সিদ্ধান্ত সালথায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার ফরিদপুরে নিষ্ক্রিয় করা হলো শক্তিশালী বোমা ফরিদপুরে পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে উরস শরীফ শুরু কাল থে‌কে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ ফরিদপুরে কোটিপতি চার প্রার্থী, আয় বেশি বিএনপির

Reporter Name / ২৯ Time View
Update : সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

 

নতুন খবর রি‌পোর্ট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুরের চারটি আসনে প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতির তালিকায় রয়েছেন চারজন প্রার্থী।

তাঁদের মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছেন ফরিদপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যবসায়ী ও তিনবারের সিআইপি আবুল বাসার খান, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদ রিংকু, তৃতীয় অবস্থানে ফরিদপুর-১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. ইলিয়াস মোল্লা এবং চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ফরিদপুর-৪ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মোল্লা। এছাড়া বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা অন্য প্রার্থীদের বার্ষিক আয়ে এগিয়ে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে চারটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের দাখিল করা মনোনয়ন পত্রের সাথে সংযুক্ত হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গে‌ছে।

ফরিদপুর-১ আসনে কোটিপতি দুইজন, বিএনপি প্রার্থীর নেই সঠিক তথ্য

জেলার আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ আসন।

এই আসনে যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী হয়েছেন সাত প্রার্থী।

এ‌দের মধ্যে দুইজনই কোটিপতি। কোটিপতির তালিকায় প্রথম অবস্থানে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খান। তি‌নি রাজ্জাক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তিনবার সিআইপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফানামা বিশ্লেষণ অনুযায়ী তাঁর বাৎসরিক আয় এক কোটি ৩৯ লাখ ৯০ হাজার ৩১৬ টাকা।

যা চারটি আসনের প্রার্থীদের সর্বোচ্চ আয়। অস্থাবর সম্পদ বিবরণীতে তাঁর নগদ অর্থ রয়েছে তিন কোটি ১৪ লাখ ৭ হাজার ৭১১ টাকা, স্ত্রীর নামে ৩০ভরি স্বর্ণ (উপহার) ও কম্পানির শেয়ারে সাড়ে তিন কোটি টাকা সহ অন্যান্য খাত উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থাবর সম্পদ বিবরনীতে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ১৬শ` শতক কৃষি ও অকৃষি জমি রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের আয়কর রিটার্নে নিজ নামে সম্পদ দেখানো হয় ৯ কোটি ১৪ লাখ ৩৬ লাখ ৩৭৮ টাকা মূল্যের এবং ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৫৫ টাকা আয়কর দিয়েছেন।

কোটিপতির তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন এই আসনের জামায়াতের প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

নির্বাচন কমিশনে দেওয়া তার হলফানামা অনুযায়ী তাঁর বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৬ টাকা।

হলফনামায় তিনি অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য হিসেবে দুই কোটি ৬৪ লাখ ৮১ হাজার ৭৬০ টাকা উল্লেখ করেছেন এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮১ হাজার ৭৬০ টাকা। যারমধ্যে ১১টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে এক কোটি ৩০ লাখ ৯০ হাজার ৩০৩ টাকা, সঞ্চয় রয়েছে ৫৪ লাখ এবং ২৪ লাখ টাকা মূল্যের মটরযানসহ অন্যান্য সম্পদ রয়েছে। এছাড়া নিজ নামে ২৫ ভরি সোনা রয়েছে। অপরদিকে স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৪৬ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকা। যারমধ্যে ঢাকার সাভারে ১২টি ফ্ল্যাট, পৈত্রিক সুত্রে ০.৪০ শতক জমিতে তিনতলা বিশিষ্ট বাড়ি রয়েছে।

এছাড়া চলতি অর্থবছরে আয়কর রিটার্নে তাঁর সম্পদ দেখানো হয়েছে দুই কোটি ৫৯ লাখ ৮২ হাজার ৯৬০ টাকা এবং আয়কর দিয়েছেন ৬৪ হাজার ৪০৮ টাকা।

এদি‌কে এই আসনে হলফনামা অনুযায়ী সম্পদে তৃতীয় স্থা‌নে র‌য়ে‌ছেন বিএনপির ম‌নোনয়ন পাওয়া কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম।

যদিও হলফনামায় সম্পদের সঠিক তথ্য না থাকায় যাচাই-বাছাইয়ে প্রাথমিকভাবে তাঁর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছিল।

হলফনামায় তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে আট লাখ ৬৫ হাজার টাকা। কৃষিখাত থেকেই আয় তিন লাখ ৯৮ হাজার টাকা। এছাড়া বাড়ি, অ‌্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক স্থান ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি ভাড়া থেকে দেড়লাখ এবং ব্যবসা থেকে আয় তিন লাখ ১৭ হাজার টাকা।

 

দাখিলকৃত হলফনামায় অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে পাঁচ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে হয়েছে ৩৬ লাখ টাকা।

যারমধ্যে নগদ সাত লাখ ৮০ হাজার ১২৭ টাকা, ৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ দুই লাখ ৬ হাজার ১১৮ টাকা, আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে এক লাখ ২৭ হাজার টাকা মূল্যের ‘২২ বোর রাইফেল’ উল্লেখ করা হয়েছে।

নিজ নামে ১৮ ভরি স্বর্ণ থাকলেও তা উপহার হিসেবে প্রাপ্ত।

এছাড়া আসবাবপত্র হিসেবে খাট, সোফা, সোকেজ, আলমারি, টিভি, ফ্রিজ উল্লেখ করলেও মূল্য দেখানো হয়নি।

অপরদিকে স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে এক কোটি ৮৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫শ` টাকা এবং আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ২০ কোটি।

তার মধ্যে নিজ নামে ২৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা মূল্যের ৫৮০.৪৪ শতাংশ কৃষি জমি, দুই লাখ ২২ হাজার ৫শ` টাকা মূল্যের ২২.৭৫ শতাংশ অকৃষি জমি দেখানো হয়েছে এবং ২৪২০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ থাকলেও তার মূল্য বা কোথায় তা উল্লেখ করা হয়নি।

অন্য চার প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরের বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৭০ হাজার ১৪৯ টাকা এবং আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন এক কোটি ৭৮ লাখ ৯৫ হাজার ৮৮৮ টাকা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মাদ শরাফাতের বার্ষিক আয় চার লাখ ৫৪ হাজার ১৮০ টাকা এবং প্রায় ৩৭ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী খালিদ বিন নাছেরের বার্ষিক আয় তিন লাখ ৯০ হাজার এবং প্রায় ৩২ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে এবং জাতীয় পার্টি সুলতান আহমেদের বার্ষিক আয় প্রায় পৌনে তিন লাখ এবং আয়কর রিটার্নে দেখানো প্রায় সাড়ে ৩৬ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।

ফরিদপুর-২ আসনে কোটিপতি প্রার্থী শামা ওবায়েদ ছেড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব:

চারটি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য গত বছরের ২০ নভেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তাঁর বার্ষিক আয় ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা।

এরমধ্যে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতের মুনাফা ৪৬ হাজার ৪০৪ টাকা, চাকরি থেকে আয় সাত লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৭ টাকা ও সম্মানী ভাতা ৯৬ হাজার টাকা।

তিনি বিবরণীতে যে অস্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছেন, তার অর্জনকালীন মূল্য তিন কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে চার কোটি ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা।

এর মধ্যে রয়েছে নগদ দুই কোটি ৫২ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৪ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৯১২ টাকা, শেয়ার বন্ড ও ঋণপত্রে বিনিয়োগ ৫০ লাখ টাকা, একটি জিপ গাড়ি ৩০ লাখ টাকা।

অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে তিনি তাঁর হলফনামায় ৫০ তোলা সোনার কথা উল্লেখ করলেও তার কোনো মূল্য উল্লেখ করেননি।

স্থাবর সম্পদের যে বিবরণ দিয়েছেন, তার অর্জনকালীন মূল্য ছয় কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ৯ কোটি টাকা।

এরমধ্যে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ জমির কোনো মূল্য তিনি উল্লেখ করেননি।

তাঁর উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অকৃষিজমি ৪৫০ শতাংশ, ঢাকার বনানীতে ৩ হাজার ২৪৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, যার মূল্য দেখিয়েছেন ছয় কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

এছাড়া আয়কর রিটার্নে ১০ কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার ৮০৬ টাকা মূল্যের সম্পদ দেখিয়েছেন এবং আয়কর দিয়েছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার ৭৫০ টাকা।

এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রার্থী না দিলেও দলটির সমর্থিত হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা শাহ মো. আকরাম আলী রয়েছেন।

বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়েদের মূল প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন তিনি।

তিনি পেশায় একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও প্রায় ৮২ বছর বয়সী।

নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁর দাখিল করা মনোয়নপত্রের সাথে সংযুক্ত হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন চার লাখ ২০ হাজার টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ রয়েছে সাড়ে ১২ লাখ টাকা মূল্যের। এছাড়া স্থাবর সম্পদ হিসেবে পৈত্রিক সুত্রে ৩৮৮ শতক কৃষি জমি ও ৪টি টিনসেড ঘর রয়েছে।

এছাড়া আসনটিতে আরও ৫ জন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ফারুক ফকিরের ৫০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. জয়নুল আবেদীন বকুল মিয়ার ২৪ লাখ টাকা, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মো. নাজমুল হাসানের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী আকরামুজ্জামানের ২৬ লাখ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শাহ মো. জামাল উদ্দিনের প্রায় চার লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে।

ফরিদপুর-৩ এ সম্পদে এগিয়ে বিএনপি, পিছিয়ে জামায়াত:

এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন মহিলাদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মরহুম চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে নায়াব ইউসুফ আহমেদ।

তাঁর দাখিলকৃত হলফনামায় পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং বি.কম পাশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া তাঁর হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বার্ষিক আয় ছয় লাখ ৭৪ হাজার ৫শ` টাকা এবং আয়ের পুরোটাই আসে বাড়ি, বাণিজ্যিক স্থানসহ অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি ভাড়া থেকে।

চলতি অর্থ বছরে আয়কর রিটার্নে ৪৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪০৬ টাকা মূল্যের সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে, যা তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ হিসেবে রয়েছে।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ৩৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা, তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ৬ লাখ ২০ হাজার ৩৯৬ টাকা। এছাড়া বাকি মূল্যের সম্পদ শেয়ার বাজার, ইলেট্রনিক পণ্য ও আসবাব পত্র রয়েছে এবং বিবাহকালীন উপহার হিসেবে ২৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে।

অপরদিকে স্থাবর সম্পদ রয়েছে পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের। এর মধ্যে উত্তরাধিকার সুত্রে ২৫০ শতক কৃষি জমি, ১২.৪৫৫ শতক অকৃষি জমি, ঢাকার ধানমন্ডিতে ৫০০ বর্গফুটের দোকানের এক চতুর্থাংশ ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সাড়ে পাঁচতলা বাড়ির এক চতুর্থাংশ সম্পদ রয়েছে।

এই আসনে বিএনপি প্রার্থীর প্রতিদ্ব‌ন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুত তাওয়াব।

তাঁর দাখিলকৃত হলফনামা অনুযায়ী, বাৎসরিক আয় এক লাখ ৭৮ হাজার ৫শ` টাকা এবং বা‌র্ষিক পেনশন ভাতা পান চার লাখ ৪২ হাজার ৪২৩ টাকা।

এছাড়া আয়কর রিটার্নে ৩৮ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৬ টাকা মূল্যের সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন এবং চলতি অর্থ বছরে ১৪ লাখ টাকা আয়ে আয়কর দিয়েছেন। অস্থাবর সম্পদ বিবরনীতে তিনি উল্লেখ করেন, নগদ অর্থ রয়েছে ২০ হাজার টাকা, ১০ লাখ টাকা মূল্যের মটরযান এবং দেড় লাখ টাকা মূল্যের ফ্রিজ, খাট ও সোফা রয়েছে। এছাড়া স্থাবর সম্পদ হিসেবে পৈত্রিক সুত্রে ২০৯.২৫ শতক কৃষি জমি, অকৃষি জমি ৩৬.১৫ শতক এবং বসবাসের একটি বাড়ি রয়েছে।

আসনটিতে অন্য তিন প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির মো. রফিকুজ্জামান মিয়া লায়েকের ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০ টাকা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী কে এম ছরোয়ার হোসেনের ৩১ লাখ ২৪ হাজার ৪৪০ টাকা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত আরিফা আক্তার বেবীর প্রায় ১৬ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে।

ফরিদপুর-৪ আসনে আয় বেশি বিএনপি প্রার্থীর:

এই আসনে কোটিপতির তালিকায় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মোল্লা। যাচাই-বাছাইয়ের তাঁর প্রার্থীতা বাতিল হলেও আপিলে ফিরে পেয়েছেন।

হলফনামার তথ্যানুযায়ী তাঁর বার্ষিক আয়, ১৭ লাখ ১৩ হাজার ১২৭ টাকা।

এছাড়া তাঁর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে দুই কোটি ৪২ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৭ টাকা।

তাঁর নগদ টাকা রয়েছে ৮২ লাখ ৫৩ হাজার ২৭ টাকা, ব্যবসায়ী পরিসম্পদ ৮০ লাখ ৪২ হাজার ৫শ` টাকা ও অন্যান্য ৮০ লাখ টাকার সম্পদ।

এছাড়া তাঁর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের।

বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। তাঁর দাখিলকৃত হলফনামায় দেওয়া তথ্যানুযায়ী পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং বার্ষিক আয় ১৮ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৪ টাকা। হলফনামার বিবরণী অনুযায়ী, বিএনপির এই প্রার্থীর বা‌র্ষিক আয়ের সিংহভাগ আসে চাকরি থেকে।

এইখাতে আয়ের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া যৌথ ব্যবসা থেকে এক লাখ ২১ হাজার ৮৩৫ টাকা, গাড়ি বিক্রি থে‌কে লাভ দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা, ক্যাশ ইনসেনটিভ ১৫ হাজার ৪৪৭ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আয় ৮ হাজার ৫১২ টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখিয়েছেন ৫১ লাখ ২৮ হাজার ৪২২ টাকা। এরমধ্যে নগদ রয়েছে ১৫ হাজার ৭০২ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ ৮ লাখ ৮২ হাজার ৭২০ টাকা, শেয়ার ১৫ লাখ টাকা ও ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের যানবাহন।

এছাড়া স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে, এক কোটি ১১ লাখ ২২ হাজার ৩৭৩ টাকা।

যার সবই কৃষি জমির মূল্য বাবদ এবং মোট কৃষিজমি রয়েছে ২১৩.৬৫৫ শতক। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আয়কর নথিতে এক কোটি ১০ লাখ ৮৪ হাজার ৩৩৯ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

আসনটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী রয়েছেন মো. সরোয়ার হোসাইন। হলফনামার তথ্যানুযায়ী, জামায়াতের এই প্রার্থীর বাৎসরিক আয় চার লাখ ৮২ হাজার ৪২২ টাকা। অস্থাবর সম্পদ বিবরণীতে নগদ টাকা রয়েছে পাঁচ লাখ ৭৩ হাজার ৯৮৭ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে দুই হাজার ২০৬ টাকা, এক লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক পণ্য ও দুই লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- পৈত্রিক সুত্রে ১১৫ শতক কৃষি জমি, অকৃষি জমির মধ্যে পৈত্রিক সুত্রে ৩৭ শতক ও ক্রয় সুত্রে ২ শতক জমি রয়েছে এবং একটি পৈত্রিক বাড়ি রয়েছে। আয়কর বিবরণীর তথ্য অনুযায়ী তাঁর দুই কোটি ২৪ লাখ ৯০ হাজার ৯শ` টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে।

 

এছাড়া এই আসনে বৈধ অন্য তিন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. ইসহাক চোকদারের অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৫৬ লাখ ৮৫ হাজার ১৩৯ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ হিসেবে ২২ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী রায়হান জামিলের মাত্র ১৫ লাখ ৩০হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী আতাউর রহমানের অস্থাবর সম্পদ হিসেবে শুধু সাড়ে ছয় লাখ টাকা নগদ এবং স্থাবর সম্পদ হিসেবে পৈত্রিক সুত্রে ছয় একর কৃষি জমি রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category