নতুন খবর রিপোর্ট
প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে ফরিদপুর জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিরোধে নেওয়া হয়েছে প্রান্তিক পর্যায়ে (ইউনিয়নের ওয়ার্ড গুলোতে) সচেতনতা কার্যক্রম।
বিতরণকৃত লিফলেট ও মৌখিক ভাবে বলা হচ্ছে, ‘‘কেউ খেজুরের কাঁচা রস খাবেন না। বাদুড় খাওয়া আংশিক ফল খাবেন না। খেজুরের রস বিক্রেতাদের প্রতি অনুরোধ কেউ কাঁচা রস খেতে চাইলে বিক্রি করবেন না।
দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাট জেলায়।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিপাহ একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগ। সাধারণত শীতকালে নিপাহ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। কাঁচা খেজুরের রসে বাদুড়ের বিষ্ঠা বা লালা মিশ্রিত হয় এবং ওই বিষ্ঠা বা লালাতে নিপাহ ভাইরাসের জীবাণু থাকে। ফলে খেজুরের কাঁচা রস পান করলে মানুষ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।
বর্তমান সময়ে বড়দের পাশাপাশি শিশু-কিশোরেরা নিপাহ ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
খেজুরের কাঁচা রস সংগ্রহ, বিক্রি ও বিতরণের সাথে সংশ্লিষ্ট গাছি ও জনসাধারণকে প্রাণিবাহিত সংক্রামক ব্যাধি রোগ নিপাহ ভাইরাস সম্পর্কে জানানো হলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এই রোগে মৃত্যুর হার প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি।
২০২২-২৩ সালে দেশে এ রোগে আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনই মৃত্যুবরণ করেন।
তাই প্রতিরোধই হচ্ছে এই রোগ থেকে বাঁচার উপায়।
খেজুরের রস বিক্রেতাদের প্রতি অনুরোধ কেউ কাঁচা রস খেতে চাইলে তা বিক্রি করবেন না।
উল্লেখ্য যে, খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড় খেতে কোনো বাধা নেই।
নিপাহ রোগের প্রধান লক্ষণ সমূহঃ
জ্বরসহ মাথা ব্যথা,খিঁচুনি,প্রলাপ বকা,
অজ্ঞান হওয়া, কোন কোন ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট হওয়া।
নিপাহ রোগ প্রতিরোধে করণীয় ঃ
খেজুরের কাঁচা রস না খাওয়া।
কোনো ধরণের আংশিক খাওয়া ফল না খাওয়া, যে কোনো ফল পরিষ্কার পানিতে ভালভাবে ধুয়ে খাওয়া । আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসার পর সাবান ও পানি দিয়ে দুই হাত ভালভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।
নিপাহ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।
এ ব্যাপারে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মাহমুদুল হাসান বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক আমরা জেলার ৯ উপজেলার সব স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে নিপাহ ভাইরাসের ভয়াবহতা এবং সচেতনতা সৃষ্টিতে করণীয় সম্পর্কে জনসাধারণকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে।