নতুন খবর রিপোর্ট
ফরিদপুর-৪ আসনে (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শহীদুল ইসলাম বাবুলের
নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামায় তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, শিক্ষাগত, পেশাগত ও আর্থিক তথ্য পাওয়া গেছে।
পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিচয়:মো. শহিদুল ইসলাম বাবুলের বাবা মো. সিরাজুল ইসলাম খান এবং মা মরিয়ম বেগম। তাঁর স্ত্রী নাজনীন রীনা পেশায় একজন চাকরিজীবী এবং তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।
তাঁর বর্তমান ঠিকানা ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রামে।
অপরদিকে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কোনাগ্রাম।
হলফনামায় বাবুল উল্লেখ করেছেন তার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। পেশাগত জীবনে তিনি একজন ব্যবসায়ী। তিনি ‘মানিপ্লান্ট লিংক প্রা: লিমিটেড’ এবং ‘ইউনিসার্ভিস’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
এদিকে তার স্ত্রী নাজনীন রীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুবাদে নিয়মিত বেতনভুক্ত কর্মজীবন পরিচালনা করছেন।যা পারিবারিক আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাজনৈতিক পরিচয়ঃ তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষক অধিকার, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন ইস্যুতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, মো. শহিদুল ইসলাম বাবুলের বার্ষিক আয় ১৮ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯৪ টাকা।
তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১৩ লাখ ১৬ হাজার ৩৯ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের হিসাবে তার নিজের নামে নগদ অর্থ রয়েছে ১৫ হাজার ৭০২ টাকা। ব্যাঙ্কে জমা রয়েছে ৮ লাখ ৮২ হাজার ৭২০ টাকা।
এছাড়া তার মালিকানায় প্রাইভেটকার, বাস ও ট্রাকসহ যানবাহনের মূল্য দেখানো হয়েছে ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তার নিজের নামে কোনো স্বর্ণালঙ্কার নেই।
অপরদিকে তার স্ত্রী নাজনীন রীনার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি। তার নগদ অর্থ রয়েছে ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ৫৩৮ টাকা এবং ব্যাঙ্কে জমা রয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ২১৯ টাকা। সঞ্চয়পত্র, ফিক্সড ডিপোজিট ও ডাক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ রয়েছে মোট ৩২ লাখ টাকা।
এছাড়া তার নামে ২১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, এক লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং এক লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।
আয়কর ও আইনগত তথ্য: শহিদুল ইসলাম বাবুল সর্বশেষ আয়বর্ষে এক লাখ ১৫ হাজার ৯৭৯ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।
তার স্ত্রী নাজনীন রীনা আয়কর দিয়েছেন ৪১ হাজার ৩৪৫ টাকা।
মামলা সংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে মোট ৪০টি মামলা ছিল।
তবে তিনি সবগুলো মামলা থেকেই খালাস পেয়েছেন। আইনগতভাবে বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো বিচারাধীন মামলা নেই।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট: ফরিদপুর-৪ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন এ তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শহিদুল ইসলাম বাবুল তাঁর নির্বাচনী প্রচারে কৃষক স্বার্থ, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও আর্থিক স্বচ্ছতার বিবরণসহ মো. শহিদুল ইসলাম বাবুলের হলফনামা ফরিদপুর-৪ আসনের ভোটারদের সামনে একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে।
এখন দেখার বিষয়, ভোটাররা তার এই রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রতিশ্রুতিকে কতটা মূল্যায়ন করেন।