• বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কুয়েতে বাংলাদেশী শ্রমি‌কের রহস্যজনক মৃত্যু মধুখালী‌তে পু‌লিশ সুপার বল‌লেন নি‌র্বাচ‌নে স‌হিংসতা নয় ফরিদপুরে যান জট ‌ঠেকা‌তে ইজিবাইক-অটো রিকশার রঙ বদলাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ ফরিদপুরে কোটিপতি চার প্রার্থী, আয় বেশি বিএনপির বোয়ালমারীতে ট্রেনের ধাক্কায় পিকআ‌পের তিন শ্রমিক নিহত, আহত ৯ ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা ক‌মি‌টির সভায় নির্বাচন প্রস্তুতি, ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত প‌রিচালনার সিদ্ধান্ত সালথায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার ফরিদপুরে নিষ্ক্রিয় করা হলো শক্তিশালী বোমা ফরিদপুরে পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে উরস শরীফ শুরু কাল থে‌কে

ফ‌রিদপুর-৪ আস‌নে ধা‌নের শী‌ষের পদধ্ব‌নি বিএন‌পির প্রার্থী চাঙ্গা

Reporter Name / ১৭৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫

নতুন খবর রিপোর্ট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সাম‌নে রে‌খে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে বি‌ভিন্ন দ‌লের প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় নে‌মে প‌ড়ে‌ছেন।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার অ‌পেক্ষা না ক‌রে তারা ভোটার‌দের কা‌ছে যা‌চ্ছেন।

নিজ ও দ‌লের নানা উন্নয়ন ভাবনা ও কর্মসূ‌চি জানান দি‌চ্ছেন।

ফরিদপুর জেলার চার‌টি সংসদীয় আস‌নই এক সময় কার্যক্রম নি‌ষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দখ‌লে ছিল।

ভো‌টে আওয়ামীলী‌গ না থাকায় নতুন নতুন প্রার্থীরা মা‌ঠে নে‌মে‌ছেন।

২০২৬ সা‌লের ফেব্রুয়া‌রি মা‌সে সম্ভাব‌্য নির্বাচনের তারিখ(১১ ডি‌সেম্বর ই‌সির নির্বাচনী তফ‌সিল ঘোষণা দেওয়ার কথা র‌য়ে‌ছে ) ধ‌রে ফরিদপুর-৪ আস‌নে নির্বাচনী যু‌দ্ধে অবতীর্ন প্রার্থীরা প্রচার ও প্রচারণা চালা‌চ্ছেন।

ফরিদপুর-৪ আস‌নে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিয়মিত গণসংযোগ ও সভা-সমা‌বে‌শ কর‌ছেন।

বিএনপি , জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নানা কর্মসূচিতে যোগদানের পাশাপাশি এলাকায় মিলাদ-মাহফিল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।

এ ছাড়া যাঁরা জুলাই আন্দোলনে শহীদ বা আহত হয়েছেন, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা খোঁজখবর নেওয়াসহ ওই পরিবারগু‌লোর পা‌শে দাঁড়া‌চ্ছেন।

ওই আস‌নের প্রার্থীরা তাদের দলের প্রতীক সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে তিনটি উপজেলার বি‌ভিন্ন গুরুত্ব মোড় ও সড়ক এলাকা সাজিয়ে তুল‌ছেন।

উপজেলা সদরের পাশাপা‌শি গ্রামের চায়ের স্টলগু‌লো‌তেও নির্বাচনী আমেজ বইছে।

ওই তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনের থেকে এ আসনে শেখ হা‌সিনার আত্মীয় মজিবুর রহমান চৌধুরী ওর‌ফে নিক্সন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত হন।

তবে ২০২৪ সা‌লে আওয়ামীলী‌গের পত‌নে রাজনৈতিক পটও পরিবর্তন হ‌য়ে‌ছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামীলীগের কোনো প্রার্থী না থাকায় বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল এ আস‌নে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন ব‌লে দলীয় নেতাকর্মী‌দের ধারণা।

কৃষক দলের দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল নির্বাচন করছেন বিএনপির হয়ে। বিএনপি থেকে মনোনয়নের আগ থেকেই এ আসনে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন তি‌নি।

এ‌তে বাবুল ভে‌া‌টে সুফল পা‌বেন ব‌লে আশা করা হ‌চ্ছে। য‌দিও বাবুল ফরিদপুর-২ আসনের বাসিন্দা।

ওই আস‌নে মনোনয়ন না দি‌য়ে দল তাকে ফরিদপুর -৪ আসনে কাজ করার জন্য বললে তিনি এখানে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছেন।বাবু‌লের সংসদ সদস‌্য প্রার্থী হওয়া এই প্রথম।

এ‌দি‌কে এ আস‌নে জামায়াত প্রার্থী ক‌রে‌ছে ভাঙ্গা উপজেলার আমির সরোয়ার হোসেনকে।

তিনিও সভার -সমাবেশ করে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন।

এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের জেলা সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমান মোল্লা, ইসলামী আন্দোলনের ইসাহাক হোসেন, সিপিবির ভাঙ্গা উপজেলা সভাপতি আতাউর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগ ও রায়হান জামিল ‌নির্বাচনী মাঠে তৎপর র‌য়ে‌ছেন। ‌

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে রায়হান জামিল বিভিন্ন ভাবে ভোটারদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।

তিনি এক টাকায় এক কেজি গরুর মাংস, ১০ টাকা ১ কেজি ইলিশ মাছ বি‌ক্রিসহ বিভিন্ন ভাবে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। ‌

এ আস‌নে বিএনপি প্রার্থী বাবুল‌কে নি‌য়ে নেতাকর্মীরা আশাবাদী।তারা বলছেন, বাবুল ক্লিন ইমেজের মানুষ। তাঁকে সঙ্গে করে আমরা নির্বাচনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। অল্প দিনেই তিনি এখানে একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ছাত্রদল থেকে শুরু করে যুবদল হয়ে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম জেল-জুলুম, ফ্যাসিস্ট সরকারের মার খেয়ে রক্তে রঞ্জিত হয়েছি। ১২৮টি মামলা কাঁধে নিয়ে এলাকার জনগণের জন্য কাজ করেছি, এখনও করে যাচ্ছি। দলীয় নীতিনির্ধারণী মহলের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আমার ওপর। আমার ত্যাগ বিবেচনা করে এ আসনে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আশা করি এবার ধানের শীষের পক্ষেই জনগণ রায় দেবেন।

নির্বাচন নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হান জামিল বলেন, আমি এলাকায় বিভিন্ন ভাবে ভোটারদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। তাদের কথা শুনছি এবং তাদের বিভিন্ন দাবি দেওয়া সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি। ‌আশা করছি আমি নির্বাচিত হতে পারলে তাদের সব দাবি দেয়া পালনের ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব।

এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের জেলা সহসভাপতি প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মোল্লা নির্বাচনে জয়ের ব্যাপার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের দল ইসলামিক নিয়ম-নীতি মেনে সকলকে সাথে নিয়ে একটি সুন্দর সমাজ এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করবেন। ‌আমরা নির্বাচিত হতে পারলে প্রতিটি সেক্টরে ভূমিকা রাখতে চাই উন্নয়নের।

জামায়াত প্রার্থী সরোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন জামায়াতকে শক্তিশালী করতে কাজ করছি। সাধারণ লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি, আমি মানুষের মধ্যে জায়গা করে নিতে পেরেছি। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইসলামী দলগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা এসেছে। আশা করছি এবারের নির্বাচনে তারা আমাকে নির্বাচিত করবেন। ‌

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন বলেন, আমরা পৌরসভা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন সহ সকল জায়গায় আমরা আমাদের কার্যক্রম এবং প্রচার-প্রচারণা চলমান রয়েছে। আমরা এবারের নির্বাচনে জেলার চারটি আসনেই জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। মানুষ ১৭ বছর ভোট দিতে পারেনি। এবার মানুষের সেই সুযোগটা এসেছে। তারা বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী হিসেবে দেখতে চাই। ফরিদপুর ৪ আসনের শহিদুল ইসলাম বাবুল মাঠের একজন নেতা। তিনি প্রচার প্রচারনায় সকলের থেকে এগিয়ে রয়েছেন এই আসনে। তিনি সকলকে একত্রিত করে কাজ করছেন। আমরা প্রতিদিন তার বিভিন্ন সভা সমাবেশে যোগদান করছি। সেখানে দেখতে পাচ্ছি বাবুলকে তারা কতটুকু পছন্দ এবং ভালোবাসেন। আমরা আশা করি বাবুল এ আসনে বিজয়ী হতে পারলে এই আসনের মানুষ উন্নয়নের এক রোল মডেল দেখতে পাবে।

অপর‌দি‌কে জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ বদরুদ্দীন বলেন, আমরা ফরিদপুরের চারটি আসনে ভোট চাওয়া এবং দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা বসে নেই ।আমরা প্রতিনিয়তই ভোটারদের কাছে চলে যাচ্ছি। আমরা শুধু নির্বাচন নিয়ে কাজ করি না আমরা সবসময়ই জনগণের কাছে যায়। তাদের সাথে সব সময় আমাদের যোগাযোগ রয়েছে।

আমাদের প্রার্থীদের সম্বন্ধে সকলেই জানেন অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ। আমরা চার‌টি আসনে জয়ের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। আমরা মাঠে যে কাজ করছি সেখানে ব্যাপক পরিমাণে সাড়া পাচ্ছি বলে তিনি জানান। ইনশাল্লাহ এবার আমারা জয়ী হতে পারব।

ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) নিয়ে গঠিত আসনটিতে মোট ভোটার চার লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৮ জন।

এ আসনে প্রায় সব সময় আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বিজয়ী হন। এরপর থেকে পরপর তিনি তিনবার এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করে বিজয়ী হন।

তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী বাবুলের প্রথম নির্বাচন হওয়ায় তি‌নি আওয়ামী লীগের দুর্গে কত জো‌রে হানা দি‌তে পার‌বেন তার ওপর নির্ভর কর‌ছে বাবু‌লের বিজয়।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category