নতুন খবর রিপোর্ট
ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের পশ্চিম পাশের পুকুরের একটি অংশ ভরাট করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
তবে অভিযুক্তদের দাবি, পৌরসভা থেকে লিজ নেওয়া জায়গাতেই তারা স্থাপনা নির্মাণ করছেন।
ঈদের ছুটিতে কলেজ বন্ধ থাকায় এ দখলের ঘটনা ঘটেছে। কলেজের পুকুর ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, কলেজের সামনের বীর মুক্তিযোদ্ধা নওফেল ফটক ও শহীদ মিনার সংলগ্ন পুকুরটি দখল করে ওইস্থানে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। বাঁশ-খুঁটির বেড়া দিয়ে মাটি ফেলে ভরাট করা হয়েছে। সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে আরসিসি পিলার বসানোর কাজ চলছে। সেখানে অন্তত পাঁচটি বড় গর্ত খোঁড়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রায় ১০ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়।
এসময় সেখানে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী শিবলী সাদিককে কাজ তদারকি করতে দেখা যায়।
এছাড়া রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. পারভেজ খান ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম মামুন রহমানসহ আরও কয়েকজনকে সেখানে অবস্থান করছিলেন।
এ ব্যাপারে কাজী শিবলী সাদিক সাংবাদিকদের জানান, ফরিদপুর পৌরসভা থেকে লিজ নেওয়া জায়গায়ই এই স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি একটি চুক্তিপত্রও দেখান।
চুক্তিপত্রে দেখা যায়, ২০১১ ও ২০১২ সালে সাবেক পৌর মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথুর স্বাক্ষরে ফরিদপুর পৌরসভা থেকে শাহীন তালুকদার ও মেহেদী হাসান শামীম তালুকদার নামে দুই ব্যক্তিকে লিজ দেওয়া হয়। তারা শহরের কমলাপুর কুঠিবাড়ী এলাকার মৃত শাহাজাহান তালুকদারের ছেলে। মেহেদী হাসান শামীম তালুকদার বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।
তিনি বলেন,শাহীন তালুকদার প্রতিবন্ধী এবং আমার প্রতিবেশী হওয়ায় তার অনুরোধে ঘরটি করে দিচ্ছি। তারা প্রায় ১২ বছর আগে লিজ নিয়েছেন। আমি তাদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে কাজ করছি। সবকিছু বৈধ কাগজপত্র অনুযায়ী করা হচ্ছে। আমরা কলেজের কোনো জায়গা দখল করছি না।
সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ এস এম আবদুল হালিম অভিযোগ করে বলেন, পৌরসভার লিজের বাইরে কলেজের জায়গাও দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমি ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আছি। বিষয়টি জানতে পেরে পৌর প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের মৌখিকভাবে জানিয়েছি। এখানে পাকা স্থাপনা হয়ে গেলে আর কিছু করার থাকবে না। এতে কলেজের সৌন্দর্য ও পুকুরের পরিবেশ নষ্ট হবে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
অধ্যক্ষ বলেন,ওরা আমাকে ফোন করে বলেছে,গত ১৭ বছরে কিছু করতে পারি নি। এখন একটু সুযোগ দিতে হবে। শুনেছি ছাত্রদলের নেতারাও এতে জড়িত।
ফরিদপুর পৌর প্রশাসক (স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক) মো. সোহরাব হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পৌরসভা থেকে লোক পাঠানো হয়েছে। সেখানে একটি পুরোনো লিজের কাগজ দেখানো হয়েছে। আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ঈদের পর লিজের কাগজ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।