নতুন খবর রিপোর্ট
ফরিদপুরে পদ্মা নদীর নাব্যতা সংকটে প্রায় তিন মাস ধরে অচল হয়ে পড়েছে ফরিদপুর সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌবন্দরটি।
নদীর তলদেশে অসংখ্য ডুবোচর জেগে ওঠায় পণ্যবাহী জাহাজ, কার্গো ও বড় ট্রলার ঘাটে ভিড়তে পারছে না।
ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।আর কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েকশ` শ্রমিক।
শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই পানি কমে যাওয়ায় নদীতে নাব্যতার সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে।
এতে বড় জাহাজগুলো বন্দর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে মাঝনদীতে নোঙর করে রাখতে হচ্ছে।
সেখান থেকে পরে ছোট ট্রলারে করে পণ্য খালাস করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ ও সময় অপচয় হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুমে এই বন্দরে দৈনিক চার থেকে পাঁচ কোটি টাকার পণ্য লেনদেন হলেও বর্তমানে তা শূন্যের কোঠায়।
২০২২-২৩ অর্থবছরে এই বন্দর থেকে এক কোটি ৪৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল।
চলতি অর্থবছরে বিআইডব্লিউটিএ দুই কোটি ৮৫ লাখ টাকায় বন্দরটি ইজারা দিলেও কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।
ওই নৌবন্দরের ইজারাদার মজিবুর রহমান জানান, জাহাজ না আসায় প্রতিদিন তাকে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
গত তিন মাসে ২৫ বার বিআইডব্লিউটিএ-কে লিখিত জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন,বন্দরের ওপর নির্ভরশীল কয়েক শ` কুলি ও শ্রমিক বর্তমানে বেকার। বন্দরের শ্রমিক আফসার বেপারী জানান, কাজ না থাকায় তারা পরিবারের খরচ ও সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকের জমানো টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা জানান, নাব্যতা সংকটের কারণে আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ দ্রুতই ডুবোচরগুলো খনন (ড্রেজিং) করে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।