নতুন খবর রিপোর্ট
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ভাঙ্গা উপজেলায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশের পুখুরিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
বিকেল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার সংঘর্ষে আশপাশের ১৪ গ্রামের কয়েকশ` মানুষ মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষে জড়ালে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েন ওই মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকেরা।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষে পাল্টাপাল্টি হামলায় ২০ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন। খবর পয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের দাবি, দুই মৌজার বাসিন্দাদের পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানকে ভন্ডুল করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে একটি মৌজার ১০ গ্রামের মানুষ হামলা চালায় এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তিন ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রাখে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের চারটি গ্রাম ব্রাহ্মণকান্দা, পুখুরিয়া, মৃধাকান্দা ও নাজিরপুরের সমন্বয়ে একটি মৌজায় (মহল্লা) অবস্থিত ব্রাহ্মণকান্দা আব্দুল শরীফ একাডেমি।
শনিবার সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল আবু জাহের ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সদরুল আলম ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।
ওই ক্রীড়া অনুষ্ঠানে পাশের হামেরদী ইউনিয়নের ১০ গ্রাম নিয়ে গঠিত মহেশ্বরদী মৌজার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাউকেই দাওয়াত দেওয়া হয় নি। এতে মহেশ্বরদী মৌজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভে সৃষ্টি হয়।
এ নিয়ে উত্তেজনার একপর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় পর্বে তামিম (১৫) নামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়।
এ খবর জানাজানি হলে তামিমের এলাকা মানিকদাহ ইউনিয়নের চারটি গ্রামের লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে কয়েকশ` মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহাসড়কে নেমে আসে। পাল্টা জবাবে মহেশ্বরদী মৌজার ১০ গ্রামের মানুষও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহাসড়কের অপর পাশে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণকান্দা আব্দুল শরীফ একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল কবীর বলেন, দুই মৌজার ১৪ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পূর্ব থেকে বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অনুষ্ঠানকে ভন্ডুল করার জন্যই মহেশ্বরদী মৌজার লোকজন একপাক্ষিকভাবে হামলা চালিয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ওসি মো. আব্দুল আলীম বলেন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান থেকে সূত্রপাত হয়ে দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বহু চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া অবরুদ্ধ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে পুলিশ তাঁদের গন্তব্যে যেতে সহযোগিতা করে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয় নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।