নতুন খবর রিপোর্ট
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে সাইফুল সরদার ওরফে সাইফেল (৪৭) নামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার(২৬ ডিসেম্বর) রাতে নিহত সাইফুল সরদারের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বাদি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।
মামলার পর পুলিশ আইয়ুব মিয়া (৫৬) ও শফিকুল মিয়া (৩৪) নামে দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জের ধরে ‘শ্যুটার জুয়েল’ নামে পরিচিত ওই এলাকার জুয়েল মিয়ার নেতৃত্বে সবুজ মিয়া, হাসিব মিয়া, সৈয়দ রাজিব আলী, আইয়ুব মিয়া, নুরু মিয়া, শুভ মিয়া, শাহা সুলতান প্রিন্সসহ একদল সশস্ত্র লোক নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রথমে সাইফুল সরদারের ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রাখে। পরে পাশের ইসমাইল মোল্লার বাড়িতে গিয়ে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। হামলার পর আসামীরা এলাকার অন্তত ৭/৮টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাইফুল সরদারকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত ইসমাইল মোল্লা বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আলফাডাঙ্গা থানার ওসি আবুল হাসনাত খান জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ জাটিগ্রাম এলাকায় নিজ বাড়িতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বিএনপি নেতা সাইফুল সরদার। তিনি ওই গ্রামের হবি সরদারের ছেলে।
সাইফুল সরদার আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পেশায় তিনি একজন কৃষক।