নতুন খবর রিপোর্ট
ফরিদপুর শহরে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য পাইলিংয়ের কাজ করার সময় পাশের একটি দ্বিতল ভবনের একাংশ ধসে পড়েছে।
এতে ভবনটিসহ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভবনে অবস্থিত আরএফএল কোম্পানির বেস্ট বাই শোরুম। তবে প্রাণে বেঁচে গেছেন সেখানে কর্মরতরা।
ক্ষতিগ্রস্ত ভবনমালিকের অভিযোগ,যথেষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থার নিতে বলা হলেে নির্মাণাধীন ভবন মালিকদের বলা হলেও তারা তা না শুনে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন।

এ ছাড়া পৌর কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শহরের নিলটুলী মুজিব সড়ক সংলগ্ন এলাকায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের একাধিক টিম।
স্থানীয়রা জানান, বেস্ট বাই শো রুমের পাশে একটি
বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য পাইলিংয়ের কাজ চলছিল।
নির্মাণাধীন এই ভবনের মালিক স্থানীয় সঞ্জয় কর্মকার, অজয় কর্মকার ও সেলিম নামে এক ব্যক্তি।
পাইলিংয়ের কাজ করার সময় কোনো নিরাপত্তা বা প্যারাসাইলিং ব্যবস্থা ছিল না।
এই অবস্থায় পাইলিংয়ের (নিচের অংশ) কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিকেরা।
হঠাৎ করেই ভবনটির একাংশ ধসে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে সেখান থেকে দৌড়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন নির্মাণশ্রমিক ও শোরুমের কর্মচারীরা।
বেস্ট বাইয়ের কর্মীরা জানান, তারা শুক্রবার সকালে এসে ফ্লোরের টাইলসে ফাটল দেখতে পান। ফাটল ধীরে ধীরে বড় হতে থাকলে ক্যাশ কাউন্টার টেবিল সরিয়ে ফেলার সময় ধসে পড়ে ভবনের এক পাশ।
ধসে পড়া ভবন ও বেস্ট বাই ফ্রাঞ্চাইজের মালিক মনিরা খাতুনের দাবি, এ ঘটনায় তাঁর ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং তিনি এর বিচার দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একাধিকবার নির্মাণাধীন ভবনমালিকদের সতর্ক করা হয়েছে এবং নিয়ম মেনে কাজ করতে বলেছি। কিন্তু তাঁরা রাতের আঁধারে আমার ভবনের নিচের মাটি সরিয়ে ফেলেছে। এ কারণেই দুর্ঘটনা। পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী তিন ফুট দূরত্ব রেখে কাজ করার কথা থাকলেও নিয়মের তোয়াক্কা না করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আজ সকালেও আমার কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া হয়।
দুর্ঘটনাস্থল দেখতে আসা জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোজাফফর আলী মুসা পৌরসভা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে বলে অভিযোগ করে বলেন, ‘ভবন নির্মাণ করতে হলে পৌরসভার অনুমোদনের প্রয়োজন হয় এবং তা সঠিকভাবে তদারকির দায়িত্ব তাদের। যদি সঠিকভাবে তদারকি হতো তাহলে এমন দুর্ঘটনা না-ও ঘটতে পারত। ভাগ্যিস কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ভবন মালিকদের একজন সঞ্জয় সাহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
কোতোয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ আলম জানান, খবর পেয়ে তাঁরা এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। তবে কেউ কোনো অভিযোগ করে নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পৌর প্রশাসক ও ফরিদপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বলা যাবে।’